ঢাকা ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

আদর্শ নির্বাচন আয়োজনে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার, নজরদারি প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা জোরদার

একটি আদর্শ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট সামনে রেখে বুধবার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা আমাদের প্রধান কাজ। জাতির জন্য এটি একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ, যা সফলভাবে সম্পন্ন করে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের ত্রুটি বা ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। ২০২৬ সালের নির্বাচনসহ ভবিষ্যতের সকল নির্বাচনের জন্য এবারের নির্বাচনকে একটি আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ড. ইউনূস আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হয়েছে, যার চূড়ান্ত ধাপ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এবং ইসি’র নির্দেশনা মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে। বর্তমান সময়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও যুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সবকিছু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, দেশি ও বিদেশি বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক এই নির্বাচন কভার করতে আগ্রহী এবং পর্যবেক্ষকরাও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তাই আমাদেরও এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও সিরিয়াস থাকতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান প্রস্তুতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ইতিবাচক মনোভাব বজায় থাকলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।

সভায় নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানান, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় তিনশজনের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যাদের ৫৬ জন প্রতিনিধি ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তারা মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল প্রক্রিয়াও পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন। ইসি সচিব সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতিকে এবারের নির্বাচনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি জানান, দলীয় প্রতীকের ব্যালট, গণভোটের ব্যালট এবং পোস্টাল ব্যালট গণনায় কিছুটা বাড়তি সময় লাগবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে তার মন্ত্রণালয় কাজ করছে। প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নির্বাচনের দিন সব ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় সচেষ্ট।

সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থানকালে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্র লুট হয়েছিল, যার মধ্যে ২ হাজার ২৫৯টি (৬২.৪ শতাংশ) উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়, যার মধ্যে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ রাউন্ড (৫২ শতাংশ) উদ্ধার হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জনমনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে বাহিনীগুলো পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা কার্যকর হলে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানান, এবারের নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র আনসার সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করবেন। এর ফলে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া বা কেন্দ্রের ভেতর কোনো বেআইনি কাজ করা সম্ভব হবে না।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজন হলে তারা ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারবে। স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি জানান, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে বডি ক্যামেরা পৌঁছে যাবে এবং পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করবে। তিনি আরও বলেন, ভোটের চার দিন আগে সব বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে এবং ভোটের পর তারা আরও সাত দিন মাঠে থাকবে। আজ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একাধিক টিম নির্বাচনসংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের যাবতীয় তথ্য ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং ও রেকর্ড করবে। তিনি বডি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করেন, যেখানে দেখানো হয় বডি ক্যামেরার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সংযুক্ত হওয়া এবং সকল ঘটনা রেকর্ড করা সম্ভব।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বডি ক্যামেরার বহু সম্ভাবনাময় দিক রয়েছে এবং এটি যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে বিশাল সাফল্য পাওয়া সম্ভব। তিনি জানান, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কম দিনের ব্যবধানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় অন্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, বর্ডার গার্ডের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বড় অংশ বরাদ্দের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

আদর্শ নির্বাচন আয়োজনে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার, নজরদারি প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা জোরদার

আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

একটি আদর্শ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট সামনে রেখে বুধবার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা আমাদের প্রধান কাজ। জাতির জন্য এটি একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ, যা সফলভাবে সম্পন্ন করে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের ত্রুটি বা ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। ২০২৬ সালের নির্বাচনসহ ভবিষ্যতের সকল নির্বাচনের জন্য এবারের নির্বাচনকে একটি আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ড. ইউনূস আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হয়েছে, যার চূড়ান্ত ধাপ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এবং ইসি’র নির্দেশনা মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে। বর্তমান সময়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও যুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সবকিছু নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, দেশি ও বিদেশি বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক এই নির্বাচন কভার করতে আগ্রহী এবং পর্যবেক্ষকরাও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তাই আমাদেরও এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও সিরিয়াস থাকতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান প্রস্তুতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ইতিবাচক মনোভাব বজায় থাকলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।

সভায় নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানান, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় তিনশজনের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যাদের ৫৬ জন প্রতিনিধি ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তারা মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল প্রক্রিয়াও পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন। ইসি সচিব সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতিকে এবারের নির্বাচনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি জানান, দলীয় প্রতীকের ব্যালট, গণভোটের ব্যালট এবং পোস্টাল ব্যালট গণনায় কিছুটা বাড়তি সময় লাগবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে তার মন্ত্রণালয় কাজ করছে। প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নির্বাচনের দিন সব ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় সচেষ্ট।

সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থানকালে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্র লুট হয়েছিল, যার মধ্যে ২ হাজার ২৫৯টি (৬২.৪ শতাংশ) উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়, যার মধ্যে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১০০ রাউন্ড (৫২ শতাংশ) উদ্ধার হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জনমনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে বাহিনীগুলো পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা কার্যকর হলে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানান, এবারের নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র আনসার সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করবেন। এর ফলে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া বা কেন্দ্রের ভেতর কোনো বেআইনি কাজ করা সম্ভব হবে না।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজন হলে তারা ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারবে। স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি জানান, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে বডি ক্যামেরা পৌঁছে যাবে এবং পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করবে। তিনি আরও বলেন, ভোটের চার দিন আগে সব বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে এবং ভোটের পর তারা আরও সাত দিন মাঠে থাকবে। আজ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একাধিক টিম নির্বাচনসংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের যাবতীয় তথ্য ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং ও রেকর্ড করবে। তিনি বডি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করেন, যেখানে দেখানো হয় বডি ক্যামেরার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সংযুক্ত হওয়া এবং সকল ঘটনা রেকর্ড করা সম্ভব।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বডি ক্যামেরার বহু সম্ভাবনাময় দিক রয়েছে এবং এটি যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে বিশাল সাফল্য পাওয়া সম্ভব। তিনি জানান, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কম দিনের ব্যবধানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় অন্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, বর্ডার গার্ডের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।