দীর্ঘ ২২ বছর পর আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে পা রাখছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মূলত মায়ের উত্তরসূরি হিসেবে ঐতিহ্য বজায় রেখে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছেন। সর্বশেষ ২০০৪ সালে যখন তিনি সিলেট জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে এসেছিলেন তখন তিনি ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর এটিই হতে যাচ্ছে ঢাকার বাইরে তার প্রথম কোনও জনসভা এবং নির্বাচনি কর্মসূচি।
তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো সিলেট নগরীতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দলীয় সূচি অনুযায়ী বুধবার সন্ধ্যায় তিনি আকাশপথে সিলেটে পৌঁছাবেন এবং রাতেই দুই ওলির মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি দক্ষিণ সুরমার বিরাইমপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে রাত যাপন করবেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তার ব্যস্ত সূচি শুরু হবে যেখানে প্রথমে তিনি গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অরাজনৈতিক তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর বেলা ১১টায় ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এই জনসভা থেকেই তিনি সারা দেশে নির্বাচনি প্রচারণার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। ফেরার পথে তিনি মৌলভীবাজারের শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে পৃথক দুটি জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া পথিমধ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে খালেদা জিয়াও সবসময় সিলেট থেকেই তাদের নির্বাচনি লড়াই শুরু করতেন। সেই পারিবারিক ও দলীয় ঐতিহ্যকে সঙ্গী করে তারেক রহমানের এই সফরকে দেশের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের এই জনসভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা থেকে অন্তত তিন লাখ মানুষের সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই সভার মঞ্চ ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করা হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো এখন তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিলেট মহানগর পুলিশ বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং সমাবেশস্থলসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নজরদারি জারি রাখা হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক পর প্রিয় নেতাকে সরাসরি দেখার প্রতীক্ষায় রয়েছেন সিলেটের সাধারণ মানুষ ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মীরা।
রিপোর্টারের নাম 

























