ইরানজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত রাখা হয়েছে।
সোমবার দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (আগের নাম টুইটার) এক পোস্টে বিচারিক কার্যক্রম জোরদার করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যিনি দয়ার যোগ্য নন, তাকে ছাড় দেওয়া ন্যায়ের পরিপন্থী হবে।” এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন রোববার স্বল্প সময়ের জন্য ইন্টারনেটের আংশিক সেবা চালু হলেও, পরে তা অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এর আগে, মোহসেনি-এজেই প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তিন নেতা তথাকথিত ‘খুনি ও সন্ত্রাসী উসকানিদাতাদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তবে, বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় ভুলবশত যারা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, তারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘ইসলামি সহানুভূতি’ পেতে পারেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ আবারও দাবি করেছে যে, চলমান বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইন্ধন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই দেশগুলো বিক্ষোভকারীদের অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দিয়েছে।
এর মধ্যেই, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্প্রতি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ‘কয়েক হাজার মানুষ’ নিহত হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, এসব প্রাণহানি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে নয়, বরং বিদেশি শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের কারণে ঘটেছে।
গত ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে তেহরানের ডাউনটাউন এলাকায় দোকানদারদের আন্দোলন থেকে সূত্রপাত হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার প্রায় প্রতিদিনই নতুন করে গ্রেফতারের তথ্য প্রকাশ করছে।
রিপোর্টারের নাম 





















