ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভায় এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের মোট ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যেখানে প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত ছয়টি করে ক্যামেরা থাকবে। অন্যান্য সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করবে।
একই সভায় রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি) উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুটি অংশে বা তার বেশি ভাগে বিভক্ত করার প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ঢাকা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং এর পরিধি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ৫০টি থানা সংবলিত ডিএমপির বিশাল কর্মযজ্ঞ একা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ায় কাজের গতি বাড়াতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই বিভক্তির চিন্তা করা হচ্ছে। অতীতে গুলশান ও মিরপুর পৌরসভার যে মডেল ছিল, সেটিও আলোচনায় উঠে এসেছে, তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নিকার-এর এই প্রথম বৈঠকে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জননিরাপত্তা বিভাগ’ ও ‘সুরক্ষা সেবা বিভাগ’কে একীভূত করা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘রাজস্ব নীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি আলাদা বিভাগ গঠন। এছাড়া ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠনের প্রস্তাবটিও সভায় ভূতাপেক্ষ অনুমোদন পেয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে এবং রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতেই এই প্রশাসনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















