ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ম্যাক্রোঁ ও ন্যাটো প্রধানের ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ্যে আনলেন ট্রাম্প

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এবার তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশট নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যকার আলাপচারিতা অত্যন্ত গোপনীয় হলেও ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পাঠানো বার্তার স্ক্রিনশটটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে কিঞ্চিৎ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বার্তায় ম্যাক্রোঁ লিখেছেন, “গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আপনি আসলে কী করতে চাইছেন, তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়।” একইসঙ্গে তিনি দাভোস বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের পর শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেনের একটি বিশেষ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন।

ম্যাক্রোঁর এই প্রস্তাবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল রাশিয়াকে পুনরায় এই জোটে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখলের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়াকে তৎকালীন জি-এইট থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ম্যাক্রোঁ তার বার্তায় প্রস্তাবিত জি-সেভেন বৈঠকে রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই বার্তার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে, ন্যাটোর নতুন মহাসচিব মার্ক রুটের পাঠানো একটি বার্তার স্ক্রিনশটও শেয়ার করেছেন ট্রাম্প। সেখানে রুট সিরিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে নিজের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ন্যাটো প্রধান।

কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে এভাবে বিশ্বনেতাদের ব্যক্তিগত বার্তা জনসমক্ষে নিয়ে আসায় ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা মহলে বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রহ এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে রাশিয়ার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তার অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এই পোস্টের পর এখন পর্যন্ত এলিসি প্যালেস বা ন্যাটোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মাঝেও হরমুজ প্রণালীতে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজ চলাচল

ম্যাক্রোঁ ও ন্যাটো প্রধানের ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ্যে আনলেন ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এবার তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশট নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যকার আলাপচারিতা অত্যন্ত গোপনীয় হলেও ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পাঠানো বার্তার স্ক্রিনশটটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে কিঞ্চিৎ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বার্তায় ম্যাক্রোঁ লিখেছেন, “গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আপনি আসলে কী করতে চাইছেন, তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়।” একইসঙ্গে তিনি দাভোস বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের পর শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেনের একটি বিশেষ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন।

ম্যাক্রোঁর এই প্রস্তাবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল রাশিয়াকে পুনরায় এই জোটে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখলের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়াকে তৎকালীন জি-এইট থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ম্যাক্রোঁ তার বার্তায় প্রস্তাবিত জি-সেভেন বৈঠকে রাশিয়াকে আমন্ত্রণ জানানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই বার্তার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

অন্যদিকে, ন্যাটোর নতুন মহাসচিব মার্ক রুটের পাঠানো একটি বার্তার স্ক্রিনশটও শেয়ার করেছেন ট্রাম্প। সেখানে রুট সিরিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে নিজের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ন্যাটো প্রধান।

কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে এভাবে বিশ্বনেতাদের ব্যক্তিগত বার্তা জনসমক্ষে নিয়ে আসায় ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা মহলে বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগ্রহ এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে রাশিয়ার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তার অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এই পোস্টের পর এখন পর্যন্ত এলিসি প্যালেস বা ন্যাটোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।