ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত? ট্রাম্পের পোস্ট করা বিতর্কিত ছবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রভুক্ত করার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক বিতর্কিত ছবি পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ শেয়ার করা এসব ছবি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্পের পোস্ট করা ছবিগুলোর মধ্যে একটিতে দেখা যায়, একটি প্রেজেন্টেশন বোর্ডে উত্তর আমেরিকা ও কানাডার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের ওপরও মার্কিন পতাকা বসানো হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছবিটি মূলত ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে হোয়াইট হাউসে ধারণ করা একটি মূল আলোকচিত্রের সম্পাদিত বা এডিট করা সংস্করণ। মূল ছবিটিতে ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন বা যুদ্ধ পরিস্থিতির মানচিত্র প্রদর্শিত ছিল, যা ইউরোপীয় নেতাদের ওয়াশিংটন সফরের সময় হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল ফ্লিকার অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁসহ অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা রুশ-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে আলোচনার জন্য ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও একটি ইলাস্ট্রেশনধর্মী ছবি শেয়ার করেছেন, যা আরও সরাসরি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আকাঙ্ক্ষাকে প্রকাশ করে। সেই ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প নিজে গ্রিনল্যান্ডের মাটিতে মার্কিন পতাকা স্থাপন করছেন। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবির সম্মুখভাগে একটি সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে, যেখানে লেখা রয়েছে— ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন ভূখণ্ড, প্রতিষ্ঠা ২০২৬’।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব পোস্টের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বা ইচ্ছাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের মধ্যে এই দ্বীপটিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এই কাল্পনিক উপস্থাপনা গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের গুরুত্বের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন আগ্রহ দেখানো হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মাঝেও হরমুজ প্রণালীতে রেকর্ড সংখ্যক জাহাজ চলাচল

গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত? ট্রাম্পের পোস্ট করা বিতর্কিত ছবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

আপডেট সময় : ০৩:১২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রভুক্ত করার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক বিতর্কিত ছবি পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ শেয়ার করা এসব ছবি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্পের পোস্ট করা ছবিগুলোর মধ্যে একটিতে দেখা যায়, একটি প্রেজেন্টেশন বোর্ডে উত্তর আমেরিকা ও কানাডার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের ওপরও মার্কিন পতাকা বসানো হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছবিটি মূলত ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে হোয়াইট হাউসে ধারণ করা একটি মূল আলোকচিত্রের সম্পাদিত বা এডিট করা সংস্করণ। মূল ছবিটিতে ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন বা যুদ্ধ পরিস্থিতির মানচিত্র প্রদর্শিত ছিল, যা ইউরোপীয় নেতাদের ওয়াশিংটন সফরের সময় হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল ফ্লিকার অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁসহ অন্যান্য ইউরোপীয় নেতারা রুশ-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে আলোচনার জন্য ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও একটি ইলাস্ট্রেশনধর্মী ছবি শেয়ার করেছেন, যা আরও সরাসরি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আকাঙ্ক্ষাকে প্রকাশ করে। সেই ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প নিজে গ্রিনল্যান্ডের মাটিতে মার্কিন পতাকা স্থাপন করছেন। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবির সম্মুখভাগে একটি সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে, যেখানে লেখা রয়েছে— ‘গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন ভূখণ্ড, প্রতিষ্ঠা ২০২৬’।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব পোস্টের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বা ইচ্ছাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছেন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের মধ্যে এই দ্বীপটিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এই কাল্পনিক উপস্থাপনা গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের গুরুত্বের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন আগ্রহ দেখানো হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।