যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বহুল আলোচিত ‘শান্তি বোর্ড’-এ অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে চীনকে। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে ওয়াশিংটনের এই আমন্ত্রণে বেইজিং সাড়া দেবে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি চীন।
প্রাথমিকভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্য নিয়ে এই বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বোর্ডের সনদে এর কর্মপরিধি কেবল ফিলিস্তিন-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আরও বিস্তৃত হবে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা এখনও পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হতে যাওয়া এই বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য বিশ্বের প্রভাবশালী বিভিন্ন দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রস্তাবিত এই শান্তি বোর্ডের কাঠামো অনুযায়ী, এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প। বোর্ডে সদস্য হিসেবে আরও থাকার কথা রয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মতো প্রভাবশালী বিশ্বনেতাদের।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, গত এক বছরে নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেলেও দুই দেশের সম্পর্ক সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ এবং একে অপরের পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের মতো ঘটনা ঘটলেও কূটনৈতিক সম্পর্ক ভেঙে পড়েনি। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে, অন্যদিকে সংঘাত উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই শান্তি বোর্ডে চীনের অন্তর্ভুক্তি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এখন বেইজিং এই আমন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত কী সাড়া দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।
রিপোর্টারের নাম 





















