নীলফামারী জেলায় চলতি মৌসুমে আগাম জাতের সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ফসল ঘরে তুলতে। কম সময়ে অধিক ফলন এবং ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায় এই ফসল চাষে কৃষকদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে আলু চাষে লোকসানের মুখে পড়ে অনেক কৃষক এখন সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন, কারণ এতে তুলনামূলকভাবে খরচ কম এবং লাভ বেশি। এই কারণে এ বছর জেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে চাষাবাদ হয়েছে।
সরকারি প্রণোদনা, অনুকূল আবহাওয়া এবং উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে কৃষকরা এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন। সাধারণত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত কৃষকরা সরিষা তুলে বাড়িতে গাদি করে রাখেন। অধিক পেকে গেলে দানা ফেটে গিয়ে অপচয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই অনেক কৃষক আধাপাকা অবস্থাতেই ফসল সংগ্রহ করেন।
স্বল্প সময়ে ভালো ফলন এবং উচ্চ বাজারমূল্য প্রাপ্তির কারণে কৃষকদের মধ্যে সরিষা চাষের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিবিড় পরিচর্যা, সরকারি সহায়তা, উন্নত বীজ এবং অনুকূল আবহাওয়ার সমন্বয়ে এই বছর সরিষার বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রমতে, চলতি অর্থ বছরে জেলার ছয়টি উপজেলায় আগাম জাতের সরিষা বারি-০৯, ১৪, ১৫ ও ১৮ এবং টোরী-০৭ জাতের চাষাবাদ করা হয়েছে। এবারে নয় হাজার তেইশ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও, তা ছাড়িয়ে প্রায় এগারো হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এই বাম্পার ফলন কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। গত বছর অনেক কৃষক বিস্তীর্ণ জমিতে আলু চাষ করে লোকসানের সম্মুখীন হয়েছিলেন। সেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই এবার সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন।
কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নারী উদ্যোক্তা চাষি শামিমা নাসরিন জানান, প্রতি বছর তিনি প্রায় সব জমিতে আলু চাষ করতেন। কিন্তু আলুর দরপতনের কারণে এবার তিনি তিন বিঘা জমিতে আগাম জাতের সরিষা চাষ করেছেন এবং বাম্পার ফলন পেয়েছেন। বর্তমানে ফসল তুলে উঠোনে গাদি করে রেখেছেন এবং শীঘ্রই মাড়াই শুরু করবেন। তিনি আশা করছেন, বিঘা প্রতি পাঁচ থেকে ছয় মন পর্যন্ত সরিষা ফলন হবে।
সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের মানুষগড়া গ্রামের সরিষা চাষি মোসফিকুর রহমান জানান, তিনি প্রতি বছরই সরিষা চাষ করেন। এবারে আগাম জাতের ফলন খুব ভালো হয়েছে। নিড়ানি, সেচ, সার ও মাড়াই খরচ বাদ দিয়েও স্বল্প সময়ে সরিষায় ভালো লাভ আসে। জ্বালানীর জন্য সরিষা গাছের খড় অত্যন্ত উপযোগী এবং সংসারে বড় কাজে লাগে। এছাড়া, বাড়ির খাঁটি ভোজ্য তেলের চাহিদাও পূরণ হয়। এই কারণেই তিনি প্রতি বছর সরিষা চাষাবাদ করেন। আমন ধান কাটার পরপরই তিনি আগাম জাতের সরিষা রোপণ করেছিলেন।
নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর রহমান জানান, প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের উন্নতমানের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। জেলায় সরিষার চাষাবাদ ব্যাপক হারে হয় এবং স্বল্প খরচে কৃষকরা এটি চাষ করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, ধান কাটার প্রায় ১৫ দিন আগে বিঘা প্রতি দেড় কেজি পর্যন্ত সরিষা বীজ ধানক্ষেতে ছিটিয়ে দিলে সিক্ত জমিতেই সরিষা হয়। এতে অনেক সময় সেচ ও নিড়ানির প্রয়োজন হয় না। ধান কাটার সময় ছোট সরিষা গাছের কোনো ক্ষতি হয় না, যা খরচ সাশ্রয় করে এবং আগাম বাম্পার ফলন নিশ্চিত করে।
রিপোর্টারের নাম 























