সারাদেশে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ ইটভাটায় এসব মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারিভাবে অভিযান চালানো হলেও এই নৈরাজ্য বন্ধ করা যাচ্ছে না।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে প্রায় ৩০টি ইটভাটায় কৃষিজমির টপসয়েল সরবরাহ করা হচ্ছে, যার অধিকাংশই অবৈধ। পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত সকল ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে গাছ বা কাঠ ব্যবহারকে অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায়ও মাটি ব্যবসায়ীদের তৎপরতা থামছে না। দিন-রাত মাটি বহনকারী ট্রাক, ট্রলি ও ট্রাক্টর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে আবাদি কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে অন্যত্র স্থানান্তর করা হচ্ছে। প্রশাসন অভিযান চালালেও মাটি কাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না। এর ফলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং কৃষি বৈচিত্র্যের মারাত্মক হুমকির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষেধ এবং অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।
কুমিল্লার প্রধান নদী গোমতীর মাটি কাটা নিষিদ্ধ হলেও প্রতিদিনই অবাধে তা চলছে। গোমতীর বানাসুয়া চর এলাকা থেকে কোটি কোটি টাকার মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের অভিযান সত্ত্বেও মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায়ও প্রশাসনের দফায় দফায় অভিযান, জরিমানা ও সতর্কবার্তার পরও ফসলি জমির মাটি কাটা থামানো যাচ্ছে না। দিনের পর দিন উর্বর কৃষিজমির উপরিভাগ কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষিজমিতে ৪০ থেকে ৫০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে, যা বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার জানিয়েছেন, ফসলি জমির মাটি কাটার খবর পাওয়া মাত্রই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ীকে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে এবং একাধিক ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে একটি চক্র রাতের আঁধারে এই অপকর্ম চালাচ্ছে এবং তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 























