আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও কঠোর নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, নির্বাচন হতে হবে শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং এতে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাত বা রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই। সেনাবাহিনী কোনো রাজনৈতিক পক্ষের নয়, বরং তারা রাষ্ট্র, সংবিধান ও জনগণের পক্ষে কাজ করবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণে আয়োজিত পৃথক দু’টি সভায় (সৈনিকদের সাথে ‘দরবার’ এবং কর্মকর্তাদের সাথে ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’) সেনাপ্রধান এসব দিকনির্দেশনা দেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকার বাইরের সেনাকর্মকর্তারাও এতে যুক্ত ছিলেন। সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর অবস্থান ও দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন উপলক্ষে একটি সর্বাঙ্গীন ‘নিরাপত্তা বলয়’ তৈরির নির্দেশ দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ যেন নির্বিঘ্নে নিজ নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো ধরনের ভয় বা চাপ যেন না থাকে, সে বিষয়ে সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরতে হবে; এর বাইরে অন্য কোনো ভূমিকার প্রশ্নই ওঠে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, সেনাসদস্যদের ধৈর্য ও সংযমই এসব পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রধান হাতিয়ার। মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি নির্দেশ দেন যে, সেনা হেফাজতে যেন কোনোভাবেই মৃত্যুর ঘটনা বা মানবাধিকার লঙ্ঘন না ঘটে। কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে এবং কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদি হেফাজতে রাখা যাবে না।
নির্বাচনী সহিংসতা ও নাশকতা আগেভাগেই দমনের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন সেনাপ্রধান। মেজর সিনহা হত্যা মামলা এবং বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে কর্মকর্তাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি পরিষ্কার হয়েছে যে, সেনাবাহিনী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কোনো স্থায়ী শক্তি হিসেবে থাকতে চায় না, বরং পেশাদার বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ব্যারাকে ফিরতে চায়।
রিপোর্টারের নাম 
























