গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এতে বাসের সহকারী চালকের একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের বৃন্দাবন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। কলেজের এমবিবিএস ২৭তম ব্যাচের ১০৩ জন শিক্ষার্থী একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে বাসযোগে ওই এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বৃন্দাবন এলাকায় পৌঁছালে বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে বাসের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা ছিটকে পড়েন এবং চালকের সহকারী গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তার একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ সফরের নাম করে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ২০ হাজার টাকা করে আদায় করেছে। কিন্তু মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার পরেও যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত জরাজীর্ণ, ফিটনেসবিহীন ও নিম্নমানের একটি বাস সরবরাহ করা হয়।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, বাসের চালক মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। বাসে শিক্ষক ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন চালকের শারীরিক অবস্থা এবং যানবাহনের সক্ষমতা যাচাই করা হয়নি, তা নিয়ে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনটি সরিয়ে রাস্তা সচল করে। তবে এই অভিযোগ ও দুর্ঘটনার বিষয়ে গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার পেছনে কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























