বৈষম্যহীন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রতীকে রায় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। রোববার বিকেলে নাটোর জেলা কালেক্টরেট চত্বরে ‘হ্যাঁ-এর ভোটের গাড়ি’ পরিদর্শন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল পশ্চিমা গোষ্ঠীর বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে। কিন্তু সেই বৈষম্য আজও সম্পূর্ণরূপে দূর হয়নি, বরং দিনে দিনে তা আরও বেড়েছে। আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কে জয়যুক্ত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেব।
তিনি চব্বিশের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেই আন্দোলনের ফসলই আজকের এই পরিবর্তন। সে সময় প্রায় চৌদ্দ হাজার ছেলে-মেয়ে আহত হয়েছিল, বত্রিশ জন হাত বা পা হারিয়েছিল এবং বাইশ জন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিল। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা কী পেলাম? মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের আশা ছিল একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন সমাজ পাব, কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।
নূরজাহান বেগম আক্ষেপ করে বলেন, চব্বিশের আন্দোলনে একটি ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী আবার আমাদের ছেলে-মেয়েদের হত্যা ও আহত করেছে। আমরা কি বারবার আহত হব আর রক্ত দিয়ে যাব? তাই আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এমন দেশ আমরা চাই না। আমরা এমন দেশ চাই যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, যারা সরকারের পক্ষে আছেন, তারা শতভাগ নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন এবং কোনো পক্ষের দিকে যাবেন না। এখানে সরকারের কোনো করণীয় নেই। আমরা চাই একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হোক। কেউ যদি দুর্বৃত্তায়ন করার চেষ্টা করে, তবে সিসিটিভি ক্যামেরায় তা ধরা পড়বে। আগের দিন এখন আর নেই, নতুন দিনের দিকে তাকাতে হবে।
‘হ্যাঁ-এর ভোটের গাড়ি’ পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন গণভোট-২৬ বিষয়ে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান, স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হাবিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব, সিভিল সার্জন ডা. মোক্তাদির আরেফিন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল হায়াত প্রমুখ।
রিপোর্টারের নাম 
























