টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় রাতের আঁধারে এক কলাচাষির প্রায় চার শতাধিক কলার কাঁদি কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এতে কৃষক দেলোয়ার হোসেনের চার লাখেরও বেশি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের পাতলাচড়া এলাকার কৃষক দেলোয়ার হোসেনের কলাবাগানে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তিনি পথে বসার উপক্রম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দেলোয়ার হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, এ বছর তিনি ৬০ হাজার টাকা ধার করে ৩০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে কলা চাষ শুরু করেছিলেন। বাগানে সবেমাত্র কলা বের হতে শুরু করেছিল। গত শুক্রবার রাতের আঁধারে শত্রুতাবশত দুর্বৃত্তরা প্রায় চার শতাধিক অপরিপক্ব কলার কাঁদি কেটে ফেলেছে। কিছু কাঁদি গাছ থেকে অর্ধেক কেটে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং কিছু কাঁদি চুরি করে নিয়ে গেছে। দেলোয়ার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “আমি এখন পথে বসে গেছি। এই কৃষি আবাদ থেকে আমার ছেলের লেখাপড়াসহ পরিবারের সব ব্যয়ভার বহন করতাম। এখন আর কোনো উপায় থাকল না।”
স্থানীয় কৃষক লিটন মিয়া, জাহাঙ্গীর, জহুরুল ও তোতা মিয়াসহ আরও কয়েকজন জানান, ফসলের এমন ক্ষতি করে দুর্বৃত্তরা চরম শত্রুতার পরিচয় দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে এনসিপির টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বলেন, “খবর পেয়ে আমি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। এতে শুধু কৃষক দেলোয়ার হোসেনই ক্ষতিগ্রস্ত হননি, দেশের অর্থনীতিতেও সামান্য হলেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে হলে কৃষকদেরও এগিয়ে নিতে হবে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দেলোয়ার হোসেনকে সরকারিভাবে সহায়তা প্রদানের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাজাহান আলী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, “কৃষক দেলোয়ারের বাগানের কলার কাঁদি যারা রাতের আঁধারে কেটেছে, তাদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দেলোয়ারকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান মাসুদ জানান, কৃষক দেলোয়ারের কলাবাগানে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা প্রায় চার শতাধিক কলার কাঁদি কেটে ফেলার বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। তিনি আশ্বস্ত করেন, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দেলোয়ারের জন্য সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























