ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনের প্রার্থী শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন নির্বাচনী খরচ মেটাতে ভোটার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। গত শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই অভিনব আহ্বান জানান, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথাগত নির্বাচনী সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
জয়নাল আবেদীন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তিনি নির্বাচনের সংস্কৃতি পরিবর্তন করে একটি জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে চান। প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে নয়, বরং প্রার্থীকে নির্বাচনী ব্যয়ে সহযোগিতা করে ভোটাররা নিজেদের ‘দেশের মালিক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং তাদের ভোটে, তাদের টাকায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, এভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছ থেকে আগামী পাঁচ বছর কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব বুঝে নেওয়া সহজ হবে। তার মতে, প্রার্থীরা সাধারণত কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও নির্বাচন কমিশনের কাছে মিথ্যা হিসাব দাখিল করেন; তিনি এই ‘মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে’ রাজনীতি করতে চান না।
এই প্রার্থী তার ফেসবুক পোস্টে নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য নিজের বিকাশ নম্বর ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার আসনে ৫ লাখ ২২ হাজার ২৪৭ জন ভোটার রয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী (ভোটার প্রতি ১০ টাকা হিসেবে) তিনি সর্বোচ্চ ৫২ লাখ ২২ হাজার ২৭০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। এই অর্থ তিনি ভোটার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এর আগে ঢাকা-৯ আসনে এনসিপি প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা, বরিশাল-৩ আসনে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং নোয়াখালী-৬ আসনে এনসিপির আব্দুল হান্নান মাসউদও একই পন্থায় সমর্থকদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছিলেন। জয়নাল আবেদীনও তাদের দেখানো পথ অনুসরণ করছেন বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে।
শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন তার পোস্টে ‘ভোট দেব-টাকা দেব, দুর্নীতিমুক্ত জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ব’ স্লোগানটিও যুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন জোট নয়, এককভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আর্থিক সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী হয়ে তিনি সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থন চেয়েছেন। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে চাঁদপুরের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রাপ্ত অর্থের পূর্ণ হিসাব এবং কোথায় ও কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর-৩ আসনে এবার মোট ৯ জন বৈধ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জয়নাল আবেদীন ছাড়াও অন্য প্রার্থীরা হলেন– বিএনপির শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের মো. জাকির হোসেন, খেলাফত মজলিসের তোফায়েল আহমদ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এ এইচ এম আহসান উল্লাহ, সিপিবি-র মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, জাকের পার্টির নুরুল ইসলাম এবং গণফোরামের অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর।
রিপোর্টারের নাম 






















