ঢাকা ১২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

আওয়ামী লীগ নেতা ড. রফিকুলের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিতর্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচনী মাঠে দেখা না গেলেও, দলীয় পরিচয় গোপন রেখে দেশের বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের কয়েকজন। মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনে তেমনই একজন হলেন আওয়ামী লীগ নেতা ড. রফিকুল ইসলাম খান। যুক্তরাষ্ট্রের মিশৌরি অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. রফিকুলের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ড. রফিকুল মনোনয়নপত্র জমা দেন। সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ড. রফিকুল স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। যদিও তিনি মিশৌরি অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি, তবে এর আগে একাধিকবার নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। এবারই প্রথম তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।

স্থানীয়দের ধারণা, দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও আওয়ামী লীগের একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক এখনো সক্রিয়। সেই ভোটকে লক্ষ্য করেই ড. রফিকুল নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেছেন। প্রকাশ্যে দলীয় পরিচয় ব্যবহার না করলেও, নেপথ্যে তিনি সংগঠন ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, তিনি আওয়ামী লীগ ঘরানার বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

এর আগে একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ড. রফিকুল। সে সময় তিনি দলের মনোনয়নপত্র কিনে দাখিল করলেও, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের প্রভাব ও রাজনৈতিক চাপে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

সাটুরিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি কথা প্রচলিত যে, ড. রফিকুলের আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের সুবাদেই তিনি একসময় আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে ‘গরিবের বন্ধু’ হিসেবে প্রচার করছেন এবং আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোটব্যাংক পুনরুদ্ধারের জন্য গোপনে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এলাকা ছেড়ে পলাতক নেতাকর্মীদের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমেও তিনি গোপন যোগাযোগ রক্ষা করছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন তিনি। এছাড়া, মানিকগঞ্জ শহরের কয়েকজন আইনজীবী, পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক নেতা এবং স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নেপথ্যে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

আমেরিকায় থাকাকালীন দলীয় সভাপতি হিসেবে ড. রফিকুলের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি জেলা ও সাটুরিয়া উপজেলা পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মী অবগত। তার ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের অ্যালবামে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ছবি এখনো বিদ্যমান। তিনি তার ফেসবুক পেজে আপলোড করা এক পোস্টারে লিখেছেন, “আসুন সম্ভাবনার পথে চলি; আপস নয়, অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাই রাজনীতিÑড. রফিক খান। আসুন দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ি!”

দেশে ফিরে ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে ড. রফিকুল স্বীকার করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর এক ব্যক্তির আত্মহত্যার অভিযোগ

আওয়ামী লীগ নেতা ড. রফিকুলের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিতর্ক

আপডেট সময় : ১১:১১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচনী মাঠে দেখা না গেলেও, দলীয় পরিচয় গোপন রেখে দেশের বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের কয়েকজন। মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনে তেমনই একজন হলেন আওয়ামী লীগ নেতা ড. রফিকুল ইসলাম খান। যুক্তরাষ্ট্রের মিশৌরি অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. রফিকুলের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ড. রফিকুল মনোনয়নপত্র জমা দেন। সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ড. রফিকুল স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। যদিও তিনি মিশৌরি অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি, তবে এর আগে একাধিকবার নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। এবারই প্রথম তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।

স্থানীয়দের ধারণা, দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও আওয়ামী লীগের একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক এখনো সক্রিয়। সেই ভোটকে লক্ষ্য করেই ড. রফিকুল নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেছেন। প্রকাশ্যে দলীয় পরিচয় ব্যবহার না করলেও, নেপথ্যে তিনি সংগঠন ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, তিনি আওয়ামী লীগ ঘরানার বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

এর আগে একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ড. রফিকুল। সে সময় তিনি দলের মনোনয়নপত্র কিনে দাখিল করলেও, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের প্রভাব ও রাজনৈতিক চাপে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

সাটুরিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি কথা প্রচলিত যে, ড. রফিকুলের আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের সুবাদেই তিনি একসময় আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে ‘গরিবের বন্ধু’ হিসেবে প্রচার করছেন এবং আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোটব্যাংক পুনরুদ্ধারের জন্য গোপনে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এলাকা ছেড়ে পলাতক নেতাকর্মীদের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমেও তিনি গোপন যোগাযোগ রক্ষা করছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন তিনি। এছাড়া, মানিকগঞ্জ শহরের কয়েকজন আইনজীবী, পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক নেতা এবং স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নেপথ্যে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

আমেরিকায় থাকাকালীন দলীয় সভাপতি হিসেবে ড. রফিকুলের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি জেলা ও সাটুরিয়া উপজেলা পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মী অবগত। তার ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের অ্যালবামে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ছবি এখনো বিদ্যমান। তিনি তার ফেসবুক পেজে আপলোড করা এক পোস্টারে লিখেছেন, “আসুন সম্ভাবনার পথে চলি; আপস নয়, অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাই রাজনীতিÑড. রফিক খান। আসুন দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ি!”

দেশে ফিরে ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে ড. রফিকুল স্বীকার করেছেন।