ঢাকা ১২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লায় নির্বাচনী দৌড়ে ২০ কোটিপতি: সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে বিএনপি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার ১১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোটিপতি রয়েছেন। মোট ৭৯ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ২০ জনই এক কোটির অধিক টাকার মালিক বলে তাঁদের দাখিলকৃত হলফনামা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে। এই সম্পদশালী প্রার্থীদের তালিকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবার শীর্ষে রয়েছে। দলটির মনোনীত ১১ জন প্রার্থীই কোটিপতি।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে ১০৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। পরবর্তীতে আপিল বিভাগে তিনজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হওয়ার পর জেলার ১১টি আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৯ জনে।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি প্রার্থীদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা। অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন প্রার্থীও কোটিপতিদের তালিকায় রয়েছেন, যাদের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এছাড়া জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) ও বিএনপির বিদ্রোহী কয়েকজন প্রার্থীও কোটিপতির তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন জেলার সবচেয়ে ধনী প্রার্থী। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ২৩১ কোটি টাকারও বেশি।

বিএনপির কোটিপতি প্রার্থীরা:
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সম্পদের পরিমাণ ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি। কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সাত কোটি ৯০ লাখ টাকা, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের এক কোটি ৬৬ লাখ টাকা, এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির তিন কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে।

এছাড়া, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে মো. জসিম উদ্দিনের সাত কোটি ৮১ লাখ টাকা, কুমিল্লা-৬ আসনে মনিরুল হক চৌধুরীর চার কোটি ৪৩ লাখ টাকা, কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে রেদোয়ান আহমেদের ৫৫ কোটি টাকা, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনে আবুল কালামের প্রায় ৮২ কোটি টাকা, কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে আবদুর গফুর ভূঁইয়ার নয় কোটি টাকা, এবং কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে কামরুল হুদার ১০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে ১০ জন ব্যবসায়ী এবং একজন আইনজীবী।

জামায়াতের কোটিপতি প্রার্থীরা:
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে কুমিল্লা-২ আসনে মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীনের এক কোটি ২৮ লাখ টাকা, কুমিল্লা-৩ আসনে মো. ইউসুফ সোহেলের ছয় কোটি ৩৫ লাখ টাকা, কুমিল্লা-৮ আসনে মো. শফিকুল আলম হেলালের দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা, কুমিল্লা-৯ আসনে সরোয়ার সিদ্দিকীর প্রায় তিন কোটি টাকা, কুমিল্লা-১০ আসনে ইয়াসির আরাফাতের এক কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং কুমিল্লা-১১ আসনে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের এক কোটি ৮৫ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে। জামায়াতের সাতজন প্রার্থী ব্যবসায়ী, একজন চিকিৎসক এবং দুজন শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত।

স্ত্রীর নামে কোটি টাকার সম্পদ:
অনেক প্রার্থীর স্ত্রীর নামেও বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে জাকারিয়া তাহের সুমনের স্ত্রীর নামে ১২৮ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। খন্দকার মোশাররফ হোসেনের স্ত্রীর সম্পদ ১৫ কোটি টাকার বেশি, রেদোয়ান আহমেদের স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা এবং ২৫ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। আবদুল গফুর ভূঁইয়ার স্ত্রীর নামে ছয় কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। কামরুল হুদার স্ত্রীর হাতে মোট সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর স্ত্রীর চার কোটি টাকার বেশি এবং মো. জসীম উদ্দিনের স্ত্রীর ৮৫ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। এছাড়া কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের আয়কর রিটার্নে স্ত্রীর নামে দেখানো সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ১০ লাখ টাকা। মনিরুল হক চৌধুরীর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৯৫ লাখ টাকা। কুমিল্লা-১১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের স্ত্রীর নামে রয়েছে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সম্পদ।

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে কুমিল্লা-৬ আসনের হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা-৭ আসনে চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন এবং কুমিল্লা-৯ আসনে সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিমের কন্যা সামিরা আজিম দোলাও কোটিপতির তালিকায় রয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর এক ব্যক্তির আত্মহত্যার অভিযোগ

কুমিল্লায় নির্বাচনী দৌড়ে ২০ কোটিপতি: সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে বিএনপি

আপডেট সময় : ১০:৪৮:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লার ১১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোটিপতি রয়েছেন। মোট ৭৯ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ২০ জনই এক কোটির অধিক টাকার মালিক বলে তাঁদের দাখিলকৃত হলফনামা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে। এই সম্পদশালী প্রার্থীদের তালিকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবার শীর্ষে রয়েছে। দলটির মনোনীত ১১ জন প্রার্থীই কোটিপতি।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে ১০৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। পরবর্তীতে আপিল বিভাগে তিনজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হওয়ার পর জেলার ১১টি আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৯ জনে।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি প্রার্থীদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা। অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন প্রার্থীও কোটিপতিদের তালিকায় রয়েছেন, যাদের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এছাড়া জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) ও বিএনপির বিদ্রোহী কয়েকজন প্রার্থীও কোটিপতির তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন জেলার সবচেয়ে ধনী প্রার্থী। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ২৩১ কোটি টাকারও বেশি।

বিএনপির কোটিপতি প্রার্থীরা:
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সম্পদের পরিমাণ ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি। কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সাত কোটি ৯০ লাখ টাকা, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের এক কোটি ৬৬ লাখ টাকা, এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির তিন কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে।

এছাড়া, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে মো. জসিম উদ্দিনের সাত কোটি ৮১ লাখ টাকা, কুমিল্লা-৬ আসনে মনিরুল হক চৌধুরীর চার কোটি ৪৩ লাখ টাকা, কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে রেদোয়ান আহমেদের ৫৫ কোটি টাকা, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনে আবুল কালামের প্রায় ৮২ কোটি টাকা, কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে আবদুর গফুর ভূঁইয়ার নয় কোটি টাকা, এবং কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে কামরুল হুদার ১০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে ১০ জন ব্যবসায়ী এবং একজন আইনজীবী।

জামায়াতের কোটিপতি প্রার্থীরা:
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে কুমিল্লা-২ আসনে মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীনের এক কোটি ২৮ লাখ টাকা, কুমিল্লা-৩ আসনে মো. ইউসুফ সোহেলের ছয় কোটি ৩৫ লাখ টাকা, কুমিল্লা-৮ আসনে মো. শফিকুল আলম হেলালের দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা, কুমিল্লা-৯ আসনে সরোয়ার সিদ্দিকীর প্রায় তিন কোটি টাকা, কুমিল্লা-১০ আসনে ইয়াসির আরাফাতের এক কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং কুমিল্লা-১১ আসনে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের এক কোটি ৮৫ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে। জামায়াতের সাতজন প্রার্থী ব্যবসায়ী, একজন চিকিৎসক এবং দুজন শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত।

স্ত্রীর নামে কোটি টাকার সম্পদ:
অনেক প্রার্থীর স্ত্রীর নামেও বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে জাকারিয়া তাহের সুমনের স্ত্রীর নামে ১২৮ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। খন্দকার মোশাররফ হোসেনের স্ত্রীর সম্পদ ১৫ কোটি টাকার বেশি, রেদোয়ান আহমেদের স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা এবং ২৫ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। আবদুল গফুর ভূঁইয়ার স্ত্রীর নামে ছয় কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। কামরুল হুদার স্ত্রীর হাতে মোট সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর স্ত্রীর চার কোটি টাকার বেশি এবং মো. জসীম উদ্দিনের স্ত্রীর ৮৫ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। এছাড়া কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের আয়কর রিটার্নে স্ত্রীর নামে দেখানো সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ১০ লাখ টাকা। মনিরুল হক চৌধুরীর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৯৫ লাখ টাকা। কুমিল্লা-১১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের স্ত্রীর নামে রয়েছে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সম্পদ।

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে কুমিল্লা-৬ আসনের হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা-৭ আসনে চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন এবং কুমিল্লা-৯ আসনে সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিমের কন্যা সামিরা আজিম দোলাও কোটিপতির তালিকায় রয়েছেন।