পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনে দলীয় কৌশল ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের পক্ষে নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে সক্রিয় না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
শনিবার সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি কৌশলগত কারণে কোনো দলীয় প্রার্থী না দিয়ে গণ-অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একটি অংশ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করে আসছিল। অভিযোগ উঠেছে, তারা মাঠ পর্যায়ে ভিপি নুরের পক্ষে সক্রিয় না হয়ে বরং দল থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় লিপ্ত ছিলেন।
এর আগে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে হাসান মামুনকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এমনকি তাকে দলের পক্ষ থেকে গুলশান কার্যালয়ে তলব করা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জোটগত ঐক্য সুসংহত করতে সংশ্লিষ্ট দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় দলের হাইকমান্ড। একই সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো কমিটি বিলুপ্তির চিঠি তারা হাতে পেয়েছেন। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্র থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, বিলুপ্ত হওয়া গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দলের বহিষ্কৃত নেতার পক্ষে কাজ করার কারণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সাথেই আছেন এবং কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, নির্বাচনী কৌশল ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের স্বার্থে গৃহীত সিদ্ধান্ত অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। যারা দলের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কাজ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আগামীতেও এমন কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 























