কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে পাচারের সময় দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত এই মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ছয় কোটি টাকা বলে জানা গেছে। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার খারাংখালি এলাকায় বিজিবির বিশেষ অভিযানে এই বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চার পাচারকারী নাফ নদী সাঁতরে মিয়ানমার সীমান্তে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে উখিয়ার ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন খারাংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তে অবস্থান নেয়। টহল দলটি খারাংখালীর মৌলভীবাজার সংলগ্ন সীমান্ত পিলারের কাছে ওত পেতে থাকে। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে চারজন ব্যক্তিকে মিয়ানমার সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন।
বিজিবির দাবি, পাচারকারীরা বিজিবির সংকেত উপেক্ষা করে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা এক রাউন্ড গুলি চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা তাদের সাথে থাকা বস্তাগুলো ফেলে দ্রুত নাফ নদী সাঁতরে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে নীল রঙের দুটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করেন। বস্তাগুলো খুলে স্কচ টেপ দিয়ে মোড়ানো ২০টি বায়ুরোধী প্যাকেটে মোট ২ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। তবে ওই এলাকায় দীর্ঘক্ষণ চিরুনি অভিযান চালিয়েও অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যাওয়া পাচারকারীদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পালিয়ে যাওয়া মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদকের এই অবৈধ কারবার বন্ধে বিজিবির এ ধরনের কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 























