চাঁদাবাজদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির পর দেশে আর কোনো চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে অবিলম্বে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।
শনিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার ভবনের হলরুমে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস্ অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের জেলা শাখা আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট বর্তমানে অনেকাংশেই বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। এর ফলে দেশের প্রতিটি শিশু জন্মের পর থেকেই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বড় হচ্ছে, যা একটি জাতির জন্য উদ্বেগের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে প্রকৃত দেশপ্রেমের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। জাতীয় উন্নয়নের চেয়ে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করাই যেন রাজনীতির লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে চাঁদাবাজি একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে, যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জনজীবন আজ বিপর্যস্ত। এ অবস্থার পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের বিখ্যাত আম ও কাঁসাসহ অন্যান্য স্থানীয় পণ্যগুলোর গুণগত মান আন্তর্জাতিক বাজারে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের স্বকীয়তা তুলে ধরতে পারলে নতুন বাজার তৈরি হবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। এতে সামগ্রিকভাবে এই অঞ্চলের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। এছাড়া কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলায় একটি ‘কৃষি ইপিজেড’ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা বিশেষ করে কর-কাঠামোর জটিলতা, নিরাপত্তাহীনতা, চাঁদাবাজি ও প্রশাসনিক হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ করেন। সভায় বক্তারা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস্ অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের জেলা শাখার নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 























