বাংলাদেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ক্রসফায়ার এবং ‘আয়নাঘর’ নামক অপকর্মের দিন শেষ হতে চলেছে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, ১৪০০ ছাত্র, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশ আজ গণভোটের পথে হাঁটছে। এই সনদকে সকল রাজনৈতিক দল সমর্থন জানিয়েছে এবং এই গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার স্বপ্ন পূরণ হবে।
আদিলুর রহমান খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে জনগণ তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দিনের ভোট রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে, ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়েছে রাতে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে ভোট দেওয়ার আগেই নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে। এই অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি বদলাতেই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে গণভোটের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজারে ‘গণভোট ২০২৬ সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক সভা’-য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। জেলা প্রশাসন এই জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গণভোটের প্রচার-প্রচারণার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রপডাউন ব্যানার, পোস্টার, লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, মাইকিং, চলচ্চিত্র ও ভিডিওগ্রাফি প্রদর্শন, বিলবোর্ড স্থাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার। ইতোমধ্যে জেলার ১৬২টি স্থানে তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, ২৪০টি ড্রপডাউন ব্যানার, ৪০টি বিলবোর্ড, ১ লাখ ৪০ হাজার ৮০০টি পোস্টার, ১০৩টি উঠান বৈঠক, ১২ দিনে ৫৭টি স্থানে ভোটের গাড়ি কার্যক্রম, ৫৩টি স্থানে চলচ্চিত্র প্রদর্শন, ২৬টি স্থানে টেন মিনিট ব্রিফস, ২৮টি স্থানে ভোটালাপ, ১১১৭টি স্থানে সড়ক প্রচার, ৬৮টি স্থানে মাইকিং এবং ১৪৭টি স্থানে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।
আদিলুর রহমান খান অতীতের বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, একসময় দেশের প্রধান ধর্মীয় গোষ্ঠী, মুসলমানরাও তাদের ধর্ম পালনে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং সেখানে সংঘটিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমরা আর সেই দিনগুলো দেখতে চাই না।
কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী। এছাড়া, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এস এম সাজেদুর রহমান এবং কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমানও বক্তব্য রাখেন। গণভোটের প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব।
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে গণভোটের প্রচারণার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম, পার্বত্য বান্দরবান এবং কক্সবাজার জেলা সফর করছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে কক্সবাজার জেলায় তার কার্যক্রম শুরু হয়। রাত ৮টায় তিনি এবং তার দল কক্সবাজার বিমানবন্দর হয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
রিপোর্টারের নাম 























