ঢাকা ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

প্রবাসীদের লাখ লাখ টাকা মেরে দেশে এসে আত্মগোপনে ফারুক

প্রবাসীদের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দেশে আত্মগোপনে প্রতারক

কক্সবাজার: সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে দেশে পালিয়ে এসেছেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার এক যুবক। অভিযুক্ত মো. ফারুক (২৮) নামের এই যুবক বর্তমানে তার গ্রামের বাড়ি চকরিয়া এবং রাজধানী ঢাকায় তার বোনের বাড়িতে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রতারিত প্রবাসীরা দেশে ফিরে ফারুকের সন্ধান না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ফারুকের বোনদের দ্বারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

ঘটনার বিবরণ:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার দক্ষিণ লোহাগাড়ার হাজীর পাড়ার প্রবাসী চাকরিজীবী মোহাম্মদ আবু সালেহ জানান, সৌদি আরবের আবাহা প্রদেশে একটি পেট্রোল পাম্পে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে ফারুক তার কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা (৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল) হাতিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ফারুক আরও বেশ কয়েকজন প্রবাসীকে একইভাবে প্রতারিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়ার প্রবাসী শাহাজুল ইসলাম জানান, ফারুক তার কাছ থেকে একটি লটারি সমিতির (প্রবাসী কল্যাণ সমিতি) প্রায় ৬ লাখ টাকা মেরে দিয়েছেন। এছাড়া, বিকাশ ব্যবসায়ী উজ্জলের কাছ থেকেও আড়াই লাখ টাকা নিয়ে ফারুক আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রতারণার কৌশল:

মোহাম্মদ আবু সালেহ বলেন, সৌদি আরবের আবাহা রাজ্যের ফরসা এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্পে চাকরিরত অবস্থায় তার সাথে ফারুকের পরিচয় হয়। পরবর্তীকালে, ফারুক তাকে পেট্রোল পাম্পে বিনিয়োগের লোভনীয় প্রস্তাব দেয়। ফারুক জানায় যে পাম্পের মালিক তার বিনিয়োগ তুলে নিয়ে পাম্পটি তাকে চালানোর জন্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং তেল কেনার টাকা পেলে সে পাম্পটি চালাতে পারবে। এই কথায় বিশ্বাস করে আবু সালেহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধার করে মোট ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল ফারুককে প্রদান করেন। ফারুক প্রতি মাসে ৫ হাজার সৌদি রিয়াল লাভের অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

প্রবাসীদের দুর্দশা:

কিন্তু লাভের অংশ তো দূরের কথা, ফারুক মূলধন সহ সমস্ত টাকা নিয়ে দেশে পালিয়ে আসে। আবু সালেহ বলেন, “যাদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে ফারুককে দিয়েছিলাম, তাদের পাওনা ফেরত চাওয়ার চাপ সহ্য করতে না পেরে দেশে এসে এখন হণ্যে হয়ে ফারুককে খুঁজছি। তার গ্রামের বাড়িতে গিয়েও কোনো সন্ধান পাইনি, উল্টো তার বোনেরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে।” তিনি আরও জানান, সৌদিতে তার ফেরার সময় হয়ে আসছে এবং এই পরিস্থিতিতে তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া:

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুন রশিদ বলেন, “ফারুক নামের ছেলেটিকে আমি চিনি। সে প্রবাসে থাকতো এবং মাঝে মাঝে তাকে গ্রামে দেখা যায়। সে প্রবাসে কারো কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে এসেছে কিনা, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।”

অন্যদিকে, আত্মগোপনে থাকা ফারুকের পারিবারিক মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় প্রবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রেজওয়ানা ও খলিলুরের গ্রেফতার চায় জামায়াত

প্রবাসীদের লাখ লাখ টাকা মেরে দেশে এসে আত্মগোপনে ফারুক

আপডেট সময় : ০১:১৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

প্রবাসীদের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দেশে আত্মগোপনে প্রতারক

কক্সবাজার: সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে দেশে পালিয়ে এসেছেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার এক যুবক। অভিযুক্ত মো. ফারুক (২৮) নামের এই যুবক বর্তমানে তার গ্রামের বাড়ি চকরিয়া এবং রাজধানী ঢাকায় তার বোনের বাড়িতে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রতারিত প্রবাসীরা দেশে ফিরে ফারুকের সন্ধান না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ফারুকের বোনদের দ্বারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

ঘটনার বিবরণ:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার দক্ষিণ লোহাগাড়ার হাজীর পাড়ার প্রবাসী চাকরিজীবী মোহাম্মদ আবু সালেহ জানান, সৌদি আরবের আবাহা প্রদেশে একটি পেট্রোল পাম্পে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে ফারুক তার কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা (৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল) হাতিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ফারুক আরও বেশ কয়েকজন প্রবাসীকে একইভাবে প্রতারিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়ার প্রবাসী শাহাজুল ইসলাম জানান, ফারুক তার কাছ থেকে একটি লটারি সমিতির (প্রবাসী কল্যাণ সমিতি) প্রায় ৬ লাখ টাকা মেরে দিয়েছেন। এছাড়া, বিকাশ ব্যবসায়ী উজ্জলের কাছ থেকেও আড়াই লাখ টাকা নিয়ে ফারুক আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রতারণার কৌশল:

মোহাম্মদ আবু সালেহ বলেন, সৌদি আরবের আবাহা রাজ্যের ফরসা এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্পে চাকরিরত অবস্থায় তার সাথে ফারুকের পরিচয় হয়। পরবর্তীকালে, ফারুক তাকে পেট্রোল পাম্পে বিনিয়োগের লোভনীয় প্রস্তাব দেয়। ফারুক জানায় যে পাম্পের মালিক তার বিনিয়োগ তুলে নিয়ে পাম্পটি তাকে চালানোর জন্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং তেল কেনার টাকা পেলে সে পাম্পটি চালাতে পারবে। এই কথায় বিশ্বাস করে আবু সালেহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধার করে মোট ৪৫ হাজার সৌদি রিয়াল ফারুককে প্রদান করেন। ফারুক প্রতি মাসে ৫ হাজার সৌদি রিয়াল লাভের অংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

প্রবাসীদের দুর্দশা:

কিন্তু লাভের অংশ তো দূরের কথা, ফারুক মূলধন সহ সমস্ত টাকা নিয়ে দেশে পালিয়ে আসে। আবু সালেহ বলেন, “যাদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে ফারুককে দিয়েছিলাম, তাদের পাওনা ফেরত চাওয়ার চাপ সহ্য করতে না পেরে দেশে এসে এখন হণ্যে হয়ে ফারুককে খুঁজছি। তার গ্রামের বাড়িতে গিয়েও কোনো সন্ধান পাইনি, উল্টো তার বোনেরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে।” তিনি আরও জানান, সৌদিতে তার ফেরার সময় হয়ে আসছে এবং এই পরিস্থিতিতে তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া:

এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুন রশিদ বলেন, “ফারুক নামের ছেলেটিকে আমি চিনি। সে প্রবাসে থাকতো এবং মাঝে মাঝে তাকে গ্রামে দেখা যায়। সে প্রবাসে কারো কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে এসেছে কিনা, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।”

অন্যদিকে, আত্মগোপনে থাকা ফারুকের পারিবারিক মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় প্রবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।