ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শান্তির বিশ্ব গড়তে জাতিসংঘকে সময়ের সাথে এগোতে হবে: ড. ইউনূস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ যদি আমাদের সবার শান্তি ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার আশা পূরণ করতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই বদলে যাওয়া বিশ্বের বাস্তবতার সাথে খাপ খাওয়াতে হবে। আমরা জাতিসংঘের সংস্কার চাই—যাতে এটি আরও গতিশীল, সমন্বিত এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সবার প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয়।’

প্রধান উপদেষ্টা শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন। এ বছর সংস্থাটির ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

ড. ইউনূস বলেন, ‘এই বিশেষ দিনে আমরা কথা দিচ্ছি যে, জাতিসংঘ সনদে যেমনটা ভাবা হয়েছিল, সেরকম শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বিশ্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ তার দায়িত্ব পালন করে যাবে।’

অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো, এর সব অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ‘জাতিসংঘ দিবস’-এর শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘এই দিনটি ভয় ও অভাবমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ার যে প্রতিজ্ঞা, তা নতুন করে মনে করার সুযোগ। একই সাথে, জাতিসংঘ যে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও ঐক্যের চেতনা বহন করে, তা পুনরুজ্জীবিত করারও এটি সময়।’

প্রধান উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, গত আট দশকে জাতিসংঘ তার কাজের পরিধি অনেক বাড়িয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে সম্পৃক্ততা আরও গভীর করেছে।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ একটি সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও অবদান রাখা সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘শান্তির সংস্কৃতির পতাকা হাতে নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে অংশ নিয়েছে এবং নীল হেলমেটধারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।’

‘আমাদের অনেক সাহসী শান্তিরক্ষী বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন,’ যোগ করেন অধ্যাপক ইউনুস।

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন, বাণিজ্য কিংবা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রেই হোক—বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় বিকশিত হয়।

‘তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, একতরফা সিদ্ধান্ত ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বৈষম্যমূলক আচরণের ফলে বিশ্বে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে,’ তিনি মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো বিশ্বকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের মানতে হবে যে, বহুপক্ষীয় কূটনীতি এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে। উগ্র জাতীয়তাবাদ ও মানবিক কষ্টের প্রতি উদাসীনতা মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের অর্জনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ বিশ্বের মানুষ গাজায় এক ভয়াবহ গণহত্যার সরাসরি সম্প্রচার দেখছে।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের নিজেদের অঞ্চলেও আমরা রোহিঙ্গাদের অধিকারবঞ্চনা ও নির্যাতনের সাক্ষী হয়ে আছি। এটা সাংস্কৃতিক পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিরই ফল। এ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নতুন করে মনোযোগ চেয়েছি।’

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূস সরকারের বিদায়: স্বস্তিতে দিল্লি, নতুন সমীকরণের প্রত্যাশা

শান্তির বিশ্ব গড়তে জাতিসংঘকে সময়ের সাথে এগোতে হবে: ড. ইউনূস

আপডেট সময় : ১১:৪৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ যদি আমাদের সবার শান্তি ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার আশা পূরণ করতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই বদলে যাওয়া বিশ্বের বাস্তবতার সাথে খাপ খাওয়াতে হবে। আমরা জাতিসংঘের সংস্কার চাই—যাতে এটি আরও গতিশীল, সমন্বিত এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সবার প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয়।’

প্রধান উপদেষ্টা শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন। এ বছর সংস্থাটির ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

ড. ইউনূস বলেন, ‘এই বিশেষ দিনে আমরা কথা দিচ্ছি যে, জাতিসংঘ সনদে যেমনটা ভাবা হয়েছিল, সেরকম শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বিশ্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ তার দায়িত্ব পালন করে যাবে।’

অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো, এর সব অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ‘জাতিসংঘ দিবস’-এর শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বলেন, ‘এই দিনটি ভয় ও অভাবমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ার যে প্রতিজ্ঞা, তা নতুন করে মনে করার সুযোগ। একই সাথে, জাতিসংঘ যে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও ঐক্যের চেতনা বহন করে, তা পুনরুজ্জীবিত করারও এটি সময়।’

প্রধান উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, গত আট দশকে জাতিসংঘ তার কাজের পরিধি অনেক বাড়িয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে সম্পৃক্ততা আরও গভীর করেছে।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ একটি সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও অবদান রাখা সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘শান্তির সংস্কৃতির পতাকা হাতে নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে অংশ নিয়েছে এবং নীল হেলমেটধারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।’

‘আমাদের অনেক সাহসী শান্তিরক্ষী বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন,’ যোগ করেন অধ্যাপক ইউনুস।

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন, বাণিজ্য কিংবা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রেই হোক—বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় বিকশিত হয়।

‘তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, একতরফা সিদ্ধান্ত ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বৈষম্যমূলক আচরণের ফলে বিশ্বে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে,’ তিনি মন্তব্য করেন।

সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো বিশ্বকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের মানতে হবে যে, বহুপক্ষীয় কূটনীতি এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে। উগ্র জাতীয়তাবাদ ও মানবিক কষ্টের প্রতি উদাসীনতা মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের অর্জনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ বিশ্বের মানুষ গাজায় এক ভয়াবহ গণহত্যার সরাসরি সম্প্রচার দেখছে।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমাদের নিজেদের অঞ্চলেও আমরা রোহিঙ্গাদের অধিকারবঞ্চনা ও নির্যাতনের সাক্ষী হয়ে আছি। এটা সাংস্কৃতিক পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিরই ফল। এ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নতুন করে মনোযোগ চেয়েছি।’