ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

গ্যাস ছাড়াই বিল আদায়: মানিকগঞ্জে তিতাসের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জের শিবালয় ও এর আশপাশের অঞ্চলের গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ না করেই গত ১৬ বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিল আদায় করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর গ্যাস না পেয়েও তাদের নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়েছে, যা চরম ভোগান্তির কারণ। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সাল থেকে মানিকগঞ্জ জেলায় গ্যাসের সরবরাহ কমতে শুরু করে। ২০১২ সালের শুরুর দিকে আবাসিক গ্রাহকরা সপ্তাহে মাত্র একদিন (শুক্রবার) গ্যাস পেতেন। তবে ছয় মাসের মধ্যেই সেই সরবরাহও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘ বছর ধরে গ্যাস সরবরাহ না থাকলেও আবাসিক, শিল্প ও সিএনজি গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত বিল আদায় অব্যাহত রাখে তিতাস। এতে গ্রাহকরা একদিকে যেমন গ্যাস না পেয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তেমনি অন্যদিকে বিল পরিশোধের বাড়তি চাপও তাদের বহন করতে হচ্ছে।

গ্যাস সরবরাহের দাবিতে অতীতে একাধিকবার আন্দোলন, মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে আয়োজিত এক মিছিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টিয়ারশেল ও গুলিতে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, সেসময় আন্দোলনকারীদের অনেকেই মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। তবে এসব প্রতিবাদেও দীর্ঘদিনের এই সমস্যার কোনো প্রতিকার মেলেনি।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস মানিকগঞ্জ অঞ্চলের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই অঞ্চলে তাদের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ২২ দশমিক ছয় এমএমসিএফডি (মিলিয়ন ঘনফুট), কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১ দশমিক আট এমএমসিএফডি। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১১ এমএমসিএফডি গ্যাসের ঘাটতি থাকছে। তিনি আরও বলেন, গ্যাস সংযোগ থাকলে বিল পরিশোধ বাধ্যতামূলক। যারা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য আবেদন করছেন, তাদের আবেদন অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মূল জার্মান থেকে অনূদিত হ্যারমান হেসের গ্রন্থ বইমেলায়

গ্যাস ছাড়াই বিল আদায়: মানিকগঞ্জে তিতাসের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৩০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

মানিকগঞ্জের শিবালয় ও এর আশপাশের অঞ্চলের গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ না করেই গত ১৬ বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিল আদায় করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর গ্যাস না পেয়েও তাদের নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়েছে, যা চরম ভোগান্তির কারণ। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সাল থেকে মানিকগঞ্জ জেলায় গ্যাসের সরবরাহ কমতে শুরু করে। ২০১২ সালের শুরুর দিকে আবাসিক গ্রাহকরা সপ্তাহে মাত্র একদিন (শুক্রবার) গ্যাস পেতেন। তবে ছয় মাসের মধ্যেই সেই সরবরাহও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘ বছর ধরে গ্যাস সরবরাহ না থাকলেও আবাসিক, শিল্প ও সিএনজি গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত বিল আদায় অব্যাহত রাখে তিতাস। এতে গ্রাহকরা একদিকে যেমন গ্যাস না পেয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তেমনি অন্যদিকে বিল পরিশোধের বাড়তি চাপও তাদের বহন করতে হচ্ছে।

গ্যাস সরবরাহের দাবিতে অতীতে একাধিকবার আন্দোলন, মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে আয়োজিত এক মিছিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টিয়ারশেল ও গুলিতে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, সেসময় আন্দোলনকারীদের অনেকেই মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। তবে এসব প্রতিবাদেও দীর্ঘদিনের এই সমস্যার কোনো প্রতিকার মেলেনি।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস মানিকগঞ্জ অঞ্চলের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই অঞ্চলে তাদের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ২২ দশমিক ছয় এমএমসিএফডি (মিলিয়ন ঘনফুট), কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১১ দশমিক আট এমএমসিএফডি। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১১ এমএমসিএফডি গ্যাসের ঘাটতি থাকছে। তিনি আরও বলেন, গ্যাস সংযোগ থাকলে বিল পরিশোধ বাধ্যতামূলক। যারা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য আবেদন করছেন, তাদের আবেদন অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।