ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

৯ রানে ৫ উইকেট: মিরপুরে শরিফুলের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বল হাতে রীতিমতো জাদু দেখালেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে মাত্র ৯ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার তুলে নিয়েছেন তিনি। শরিফুলের এমন বিধ্বংসী বোলিংয়ের সুবাদে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়ে দাপুটে জয় পেয়েছে তার দল চট্টগ্রাম রয়্যালস। এই দারুণ পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে তিনি ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় নতুন কিছু রেকর্ডও যুক্ত করেছেন।

ম্যাচে ৩.৫ ওভার বল করে ১টি মেডেনসহ মাত্র ৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন শরিফুল। তার ইকোনমি রেট ছিল ২.৩৪। টি-টোয়েন্টিতে এটি তার নবম মেডেন ওভার। শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই পেসার প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যান।

নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ইনিংসের প্রথম ওভারেই বল হাতে আসেন শরিফুল। প্রথম বলেই একটি বাউন্ডারি হজম করলেও এরপর পুরো ম্যাচে আর কোনো চার হজম করেননি তিনি, যা তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েরই প্রমাণ। প্রথম ওভারে ৫ রান খরচ করার পর নিজের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে তিনি প্রথম উইকেটের দেখা পান। নোয়াখালীর আফগান রিক্রুট হাসান ঈসাখিলকে সাজঘরে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন তিনি। পাওয়ার প্লে শেষে শরিফুলের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ২-০-৮-১।

নিজের তৃতীয় ওভারে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন শরিফুল ইসলাম। এই ওভারে তিনি কোনো রান খরচ না করেই দুই উইকেট শিকার করেন। ইনিংসের স্লগ ওভারে এসে নোয়াখালীর লোয়ার অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান হাসান মাহমুদ ও মেহেদি হাসান রানাকে পরপর দুই বলে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান এই বাঁহাতি পেসার। তবে আফগানিস্তানের জহির খান দারুণভাবে বলটি সামলে নিয়ে শরিফুলের হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন আটকে দেন। এই দুর্দান্ত ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার ছিল ৩-১-৮-১।

ম্যাচের ১৯তম ওভারে নিজের শেষ স্পেল করতে আসেন শরিফুল। ওভারের দ্বিতীয় বলে জহির খান এক রান নেওয়ার পর পরের বলেই সাব্বির হোসেনকে আউট করেন তিনি। এরপর এক বল বিরতি দিয়ে নোয়াখালীর শেষ ব্যাটসম্যান ইহসানউল্লাহকেও ফেরান প্যাভিলিয়নে। এর ফলে এক বল বাকি থাকতেই অলআউট হয় নোয়াখালী এক্সপ্রেস এবং শরিফুলের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৩.৫-১-৯-৫। তার করা মোট ২৩ বলের মধ্যে ১৮টিই ছিল ডট বল, অর্থাৎ নোয়াখালীর ব্যাটসম্যানরা মাত্র ৫টি বল থেকে রান নিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

এই পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে শরিফুল এবারের আসরে এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডট বল করার রেকর্ড গড়েন। শুধু তাই নয়, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৯ কিংবা তার চেয়ে কম রানে ফাইফার নেওয়া তৃতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে নিজের নাম লেখালেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন সাকিব আল হাসান (বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস, ৬/৬) এবং নাসুম আহমেদ (সিলেট টাইটান্স, ৫/৭)।

বিপিএলের ইতিহাসে ৯ কিংবা তার চেয়ে কম রানে ফাইফার নেওয়ার ঘটনা এটি ষষ্ঠবারের মতো ঘটলো। শরিফুলের আগে এই তালিকায় রয়েছেন মোহাম্মদ সামি (দুরন্ত রাজশাহী, ৫/৬, ২০১২), ফাহিম আশরাফ (ফরচুন বরিশাল, ৫/৭, ২০২৫), নাসুম আহমেদ (সিলেট টাইটান্স, ৫/৭, ২০২৬) এবং ওয়াহাব রিয়াজ (ঢাকা প্লাটুন, ৫/৮, ২০১৯)। শরিফুল ইসলাম (চট্টগ্রাম রয়্যালস, ৫/৯, ২০২৬) এখন এই এলিট ক্লাবের একজন সদস্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধকে ভয় পায় না, আত্মসমর্পণের চেয়েও বেশি ভীত

৯ রানে ৫ উইকেট: মিরপুরে শরিফুলের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স

আপডেট সময় : ১০:২২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বল হাতে রীতিমতো জাদু দেখালেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে মাত্র ৯ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার তুলে নিয়েছেন তিনি। শরিফুলের এমন বিধ্বংসী বোলিংয়ের সুবাদে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়ে দাপুটে জয় পেয়েছে তার দল চট্টগ্রাম রয়্যালস। এই দারুণ পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে তিনি ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় নতুন কিছু রেকর্ডও যুক্ত করেছেন।

ম্যাচে ৩.৫ ওভার বল করে ১টি মেডেনসহ মাত্র ৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন শরিফুল। তার ইকোনমি রেট ছিল ২.৩৪। টি-টোয়েন্টিতে এটি তার নবম মেডেন ওভার। শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই পেসার প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যান।

নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ইনিংসের প্রথম ওভারেই বল হাতে আসেন শরিফুল। প্রথম বলেই একটি বাউন্ডারি হজম করলেও এরপর পুরো ম্যাচে আর কোনো চার হজম করেননি তিনি, যা তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েরই প্রমাণ। প্রথম ওভারে ৫ রান খরচ করার পর নিজের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে তিনি প্রথম উইকেটের দেখা পান। নোয়াখালীর আফগান রিক্রুট হাসান ঈসাখিলকে সাজঘরে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন তিনি। পাওয়ার প্লে শেষে শরিফুলের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ২-০-৮-১।

নিজের তৃতীয় ওভারে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন শরিফুল ইসলাম। এই ওভারে তিনি কোনো রান খরচ না করেই দুই উইকেট শিকার করেন। ইনিংসের স্লগ ওভারে এসে নোয়াখালীর লোয়ার অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান হাসান মাহমুদ ও মেহেদি হাসান রানাকে পরপর দুই বলে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান এই বাঁহাতি পেসার। তবে আফগানিস্তানের জহির খান দারুণভাবে বলটি সামলে নিয়ে শরিফুলের হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন আটকে দেন। এই দুর্দান্ত ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার ছিল ৩-১-৮-১।

ম্যাচের ১৯তম ওভারে নিজের শেষ স্পেল করতে আসেন শরিফুল। ওভারের দ্বিতীয় বলে জহির খান এক রান নেওয়ার পর পরের বলেই সাব্বির হোসেনকে আউট করেন তিনি। এরপর এক বল বিরতি দিয়ে নোয়াখালীর শেষ ব্যাটসম্যান ইহসানউল্লাহকেও ফেরান প্যাভিলিয়নে। এর ফলে এক বল বাকি থাকতেই অলআউট হয় নোয়াখালী এক্সপ্রেস এবং শরিফুলের বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৩.৫-১-৯-৫। তার করা মোট ২৩ বলের মধ্যে ১৮টিই ছিল ডট বল, অর্থাৎ নোয়াখালীর ব্যাটসম্যানরা মাত্র ৫টি বল থেকে রান নিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

এই পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে শরিফুল এবারের আসরে এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ডট বল করার রেকর্ড গড়েন। শুধু তাই নয়, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৯ কিংবা তার চেয়ে কম রানে ফাইফার নেওয়া তৃতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে নিজের নাম লেখালেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন সাকিব আল হাসান (বার্বাডোস ট্রাইডেন্টস, ৬/৬) এবং নাসুম আহমেদ (সিলেট টাইটান্স, ৫/৭)।

বিপিএলের ইতিহাসে ৯ কিংবা তার চেয়ে কম রানে ফাইফার নেওয়ার ঘটনা এটি ষষ্ঠবারের মতো ঘটলো। শরিফুলের আগে এই তালিকায় রয়েছেন মোহাম্মদ সামি (দুরন্ত রাজশাহী, ৫/৬, ২০১২), ফাহিম আশরাফ (ফরচুন বরিশাল, ৫/৭, ২০২৫), নাসুম আহমেদ (সিলেট টাইটান্স, ৫/৭, ২০২৬) এবং ওয়াহাব রিয়াজ (ঢাকা প্লাটুন, ৫/৮, ২০১৯)। শরিফুল ইসলাম (চট্টগ্রাম রয়্যালস, ৫/৯, ২০২৬) এখন এই এলিট ক্লাবের একজন সদস্য।