ঢাকা ০২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

কোপা দেল রে’র শেষ আটে বার্সা: ফেরান-ইয়ামালের গোলে টানা ১১ জয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা জয়ের পর এবার কোপা দেল রে’তেও নিজেদের অপ্রতিরোধ্য ফর্ম ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। বৃহস্পতিবার রাতে এস্তাদিও এল সারদিনেরোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রেসিং সান্তান্দারকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। ফেরান তোরেস ও লামিনে ইয়ামালের গোলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডও গড়েছে। কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে এটি তাদের টানা একাদশ জয়।

সাম্প্রতিক সময়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতার পর থেকেই জয়ের ছন্দে আছে বার্সা। সেই ধারাবাহিকতায় কোপা দেল রে’র এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলো।

রেসিং সান্তান্দারের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের জন্য বেশ ভুগতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও জালের দেখা না পাওয়ায় একসময় অঘটনের শিকার হওয়ার শঙ্কাও জেঁকে বসেছিল। অবশেষে ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান ফেরান তোরেস। ফেরমিন লোপেজের দারুণ অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। বার্সার ডাগআউটে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দেয় এই গোল।

ম্যাচে রেসিং সান্তান্দারও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছিল এবং মানেক্স লোসানোর দুটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়, যা বার্সার জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল। ম্যাচের একদম শেষ দিকে, ইনজুরি টাইমে, রাফিনহার পাস থেকে গোল করে বার্সেলোনার জয়ের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তার এই গোল কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সার স্থান নিশ্চিত করে।

এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়লো বার্সেলোনা। এর আগে লুইস এনরিকের অধীনে ২০১৪-১৫ মৌসুমে, পেপ গার্দিওলার কোচিংয়ে ২০০৮-০৯ মৌসুমে, ফ্রানৎস প্লাটকোর কোচিংয়ে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে এবং ১৯২৫-১৯২৭ মৌসুমের মধ্যে রালফ কিরবি, রিচার্ড ডম্বি ও রোমা ফর্নসের তত্ত্বাবধানে এই রেকর্ড গড়েছিল দলটি। তবে ক্লাবটির ইতিহাসে টানা জয়ের রেকর্ড থেকে এখনো অনেকটা দূরে অবস্থান করছে ফ্লিকের বর্তমান বার্সেলোনা। ২০০৫-০৬ মৌসুমে ফ্রাংক রাইকার্ডের কোচিংয়ে সব ধরনের টুর্নামেন্ট মিলিয়ে টানা ১৮ ম্যাচে জয় পেয়েছিল বার্সা, যা এখনো ক্লাব রেকর্ড। এই রেকর্ড স্পর্শ করতে হলে তাদের আরও সাতটি জয় প্রয়োজন।

ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে ফেরান তোরেস বলেন, “আমরা জানতাম, এটি একটি কঠিন ম্যাচ হবে এবং আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। শেষ পর্যন্ত আমাদের কৌশল কাজে লেগেছে।” নিজের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আরও অনেক গোল করতে চাই। আমার লক্ষ্য হলো দল এবং কোচকে সাহায্য করা। আমি জানতাম, এই মৌসুমটি আমার জন্য ভিন্ন হবে এবং বার্সার একজন ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতে আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধকে ভয় পায় না, আত্মসমর্পণের চেয়েও বেশি ভীত

কোপা দেল রে’র শেষ আটে বার্সা: ফেরান-ইয়ামালের গোলে টানা ১১ জয়

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা জয়ের পর এবার কোপা দেল রে’তেও নিজেদের অপ্রতিরোধ্য ফর্ম ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। বৃহস্পতিবার রাতে এস্তাদিও এল সারদিনেরোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রেসিং সান্তান্দারকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। ফেরান তোরেস ও লামিনে ইয়ামালের গোলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডও গড়েছে। কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে এটি তাদের টানা একাদশ জয়।

সাম্প্রতিক সময়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতার পর থেকেই জয়ের ছন্দে আছে বার্সা। সেই ধারাবাহিকতায় কোপা দেল রে’র এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলো।

রেসিং সান্তান্দারের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের জন্য বেশ ভুগতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও জালের দেখা না পাওয়ায় একসময় অঘটনের শিকার হওয়ার শঙ্কাও জেঁকে বসেছিল। অবশেষে ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান ফেরান তোরেস। ফেরমিন লোপেজের দারুণ অ্যাসিস্ট থেকে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। বার্সার ডাগআউটে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দেয় এই গোল।

ম্যাচে রেসিং সান্তান্দারও পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছিল এবং মানেক্স লোসানোর দুটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়, যা বার্সার জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল। ম্যাচের একদম শেষ দিকে, ইনজুরি টাইমে, রাফিনহার পাস থেকে গোল করে বার্সেলোনার জয়ের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তার এই গোল কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সার স্থান নিশ্চিত করে।

এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়লো বার্সেলোনা। এর আগে লুইস এনরিকের অধীনে ২০১৪-১৫ মৌসুমে, পেপ গার্দিওলার কোচিংয়ে ২০০৮-০৯ মৌসুমে, ফ্রানৎস প্লাটকোর কোচিংয়ে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে এবং ১৯২৫-১৯২৭ মৌসুমের মধ্যে রালফ কিরবি, রিচার্ড ডম্বি ও রোমা ফর্নসের তত্ত্বাবধানে এই রেকর্ড গড়েছিল দলটি। তবে ক্লাবটির ইতিহাসে টানা জয়ের রেকর্ড থেকে এখনো অনেকটা দূরে অবস্থান করছে ফ্লিকের বর্তমান বার্সেলোনা। ২০০৫-০৬ মৌসুমে ফ্রাংক রাইকার্ডের কোচিংয়ে সব ধরনের টুর্নামেন্ট মিলিয়ে টানা ১৮ ম্যাচে জয় পেয়েছিল বার্সা, যা এখনো ক্লাব রেকর্ড। এই রেকর্ড স্পর্শ করতে হলে তাদের আরও সাতটি জয় প্রয়োজন।

ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে ফেরান তোরেস বলেন, “আমরা জানতাম, এটি একটি কঠিন ম্যাচ হবে এবং আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। শেষ পর্যন্ত আমাদের কৌশল কাজে লেগেছে।” নিজের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আরও অনেক গোল করতে চাই। আমার লক্ষ্য হলো দল এবং কোচকে সাহায্য করা। আমি জানতাম, এই মৌসুমটি আমার জন্য ভিন্ন হবে এবং বার্সার একজন ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতে আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”