ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

কেরানীগঞ্জে মা-মেয়ে হত্যা: ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস, গ্রেপ্তার ২

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার কেরানীগঞ্জে এনজিও ঋণের জেরে মা ও মেয়েকে হত্যার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। গত ২৫ ডিসেম্বর সংঘটিত এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের ২১ দিন পর গত বৃহস্পতিবার তাদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ এই সময় হত্যাকারীরা মৃতদেহ দুটি নিজ ফ্ল্যাটেই লুকিয়ে রেখেছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গৃহশিক্ষিকা মীম আক্তার ও তার বোন নুসরাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতরা হলেন রোকেয়া রহমান (৩২) এবং তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমা। গত বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ মীম আক্তারের বাসা থেকে দুর্গন্ধ পাওয়ার খবর পেয়ে অভিযান চালায়। পরে ফ্ল্যাটের শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের এবং বাথরুমের ছাদ থেকে মেয়ে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, গৃহশিক্ষিকা মীম আক্তার একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এই ঋণের জামিনদার ছিলেন নিহত রোকেয়া রহমান। মীম নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় এনজিও কর্তৃপক্ষ জামিনদার রোকেয়াকে চাপ দিচ্ছিল। এ নিয়ে রোকেয়া ও মীমের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হতো।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে ফাতেমা মীম আক্তারের বাসায় প্রাইভেট পড়তে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর ফাতেমার অসুস্থতার কথা বলে তার মা রোকেয়াকে ডেকে এনে তাকেও হত্যা করে মীম আক্তার ও তার বোন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মা-মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন। গত ২৭ ডিসেম্বর নিহত ফাতেমার বাবা শাহিন মিয়া কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রনি চৌধুরী জানান, ঘটনার পর মীম, তার স্বামী হুমায়ূন এবং বোনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মীম ও তার বোন পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা স্বীকার করলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুক্রবার কালিন্দী ইউনিয়নের মুসলিমবাগ এলাকার শামীম মিয়ার মালিকানাধীন পাঁচতলা ভবনে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া মীমের ফ্ল্যাট থেকে এখনো দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। বাড়ির মালিক শামীম মিয়া জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার স্ত্রী মিতু বেগম তাকে ফোন করে দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়ার অস্বাভাবিক আচরণ এবং ঘর থেকে তীব্র গন্ধ আসার কথা জানান। তখন তিনি ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিতে বলেন। পরে তিনি নিজে বাসায় এসে পুলিশে খবর দিলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ দুটি উদ্ধার করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মূল জার্মান থেকে অনূদিত হ্যারমান হেসের গ্রন্থ বইমেলায়

কেরানীগঞ্জে মা-মেয়ে হত্যা: ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস, গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার কেরানীগঞ্জে এনজিও ঋণের জেরে মা ও মেয়েকে হত্যার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। গত ২৫ ডিসেম্বর সংঘটিত এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের ২১ দিন পর গত বৃহস্পতিবার তাদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ এই সময় হত্যাকারীরা মৃতদেহ দুটি নিজ ফ্ল্যাটেই লুকিয়ে রেখেছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গৃহশিক্ষিকা মীম আক্তার ও তার বোন নুসরাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতরা হলেন রোকেয়া রহমান (৩২) এবং তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমা। গত বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ মীম আক্তারের বাসা থেকে দুর্গন্ধ পাওয়ার খবর পেয়ে অভিযান চালায়। পরে ফ্ল্যাটের শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের এবং বাথরুমের ছাদ থেকে মেয়ে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, গৃহশিক্ষিকা মীম আক্তার একটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এই ঋণের জামিনদার ছিলেন নিহত রোকেয়া রহমান। মীম নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় এনজিও কর্তৃপক্ষ জামিনদার রোকেয়াকে চাপ দিচ্ছিল। এ নিয়ে রোকেয়া ও মীমের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হতো।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে ফাতেমা মীম আক্তারের বাসায় প্রাইভেট পড়তে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর ফাতেমার অসুস্থতার কথা বলে তার মা রোকেয়াকে ডেকে এনে তাকেও হত্যা করে মীম আক্তার ও তার বোন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মা-মেয়ে নিখোঁজ ছিলেন। গত ২৭ ডিসেম্বর নিহত ফাতেমার বাবা শাহিন মিয়া কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রনি চৌধুরী জানান, ঘটনার পর মীম, তার স্বামী হুমায়ূন এবং বোনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মীম ও তার বোন পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা স্বীকার করলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুক্রবার কালিন্দী ইউনিয়নের মুসলিমবাগ এলাকার শামীম মিয়ার মালিকানাধীন পাঁচতলা ভবনে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া মীমের ফ্ল্যাট থেকে এখনো দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। বাড়ির মালিক শামীম মিয়া জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার স্ত্রী মিতু বেগম তাকে ফোন করে দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়ার অস্বাভাবিক আচরণ এবং ঘর থেকে তীব্র গন্ধ আসার কথা জানান। তখন তিনি ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিতে বলেন। পরে তিনি নিজে বাসায় এসে পুলিশে খবর দিলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ দুটি উদ্ধার করে।