ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম–৮ আসনে জোটের টানাপোড়েন: জামায়াতের অনমনীয় অবস্থান, এনসিপির দাবি ঘিরে উত্তেজনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–পাঁচলাইশ–চান্দগাঁও) আসনে জোটের সমীকরণ জটিল আকার ধারণ করেছে। শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই আসনটি দাবি করায় জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থী ডা. আবু নাসের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঐতিহ্যগতভাবে জামায়াতের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে দলটির স্থায়ী ভোটব্যাংক, সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক এবং সুপরিচিত প্রার্থীর কারণে তারা আসনটি ছাড়তে নারাজ। এনসিপির আগ্রাসী মনোভাব সত্ত্বেও আসন ভাগাভাগিতে ছাড় না দেওয়ার অবস্থানে অনড় জামায়াত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম–৮ আসনে জামায়াতের রাজনৈতিক কার্যক্রমের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবী ও ত্রাণ কার্যক্রম, এবং স্থানীয় ধর্মীয়–সামাজিক সংযোগের মাধ্যমে এই এলাকায় দলটির একটি মজবুত ভোটভিত্তি তৈরি হয়েছে। গত দেড় বছরে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও দলটি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিল। দলীয় সূত্রের মতে, পাঁচলাইশ–চান্দগাঁওয়ের শহুরে জনগোষ্ঠী এবং বোয়ালখালী এলাকার ধর্মীয়–গ্রামীণ জনপদের ওপর ভিত্তি করে জামায়াত এই আসনকে তাদের ‘নিরাপদ আসন’ হিসেবে বিবেচনা করে। এ কারণেই জোটের ভেতর থেকে এনসিপির প্রবল চাপ থাকলেও আসন ছাড়ার কোনো প্রশ্নই নেই তাদের কাছে।

জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মো. মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “আমাদের প্রার্থী ডা. আবু নাসের এই আসনেরই সন্তান। জন্মলগ্ন থেকে এখানে বড় হয়েছেন, দীর্ঘ বছর ধরে রাজনীতি করছেন এবং মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শুধু গত দেড় বছর নয়, অনেক আগে থেকেই তিনি এলাকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।” তিনি আরও বলেন, “অন্যদিকে, এনসিপির প্রার্থী এতদিন চট্টগ্রাম–১৩ আসনে কাজ করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি চট্টগ্রাম–৮ আসনে সক্রিয় হয়েছেন। তার স্থানীয় ভিত্তি খুবই দুর্বল।” মোরশেদুল মনে করেন, ডা. আবু নাসের ছাড়া এ আসনে অন্য কাউকে প্রার্থী করা হলে কার্যত আসনটি প্রতিপক্ষ দলের হাতে তুলে দেওয়ার শামিল হবে।

জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসের স্থানীয়ভাবে একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক। চিকিৎসাসেবা, রমজানে ইফতার বিতরণ, কোরবানির মাংস বিতরণ, ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি বহু বছর ধরে যুক্ত আছেন। দলের নেতাদের মতে, এসব কার্যক্রম ভোটারদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়েছে। ডা. নাসের বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, গ্রামের মানুষ থেকে শহুরে ভোটার—সব জায়গা থেকেই দারুণ সাড়া পাচ্ছি। ঘরে ঘরে যোগাযোগ করছি এবং মানুষ আশ্বস্ত করছে।”

এদিকে, এনসিপি জোটের ভেতর চট্টগ্রামের এই আসনটি প্রকাশ্যেই দাবি করছে। দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক জোবাইরুল হাসান আরিফ মনোনয়ন পাওয়ার পর মাঠে নেমে আলোচনায় এসেছেন। যদিও তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি অপেক্ষাকৃত দুর্বল, তবু জোটের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন করে ‘নতুন মুখ’ নিয়ে ভোটে লড়তে চায় তারা। এ বিষয়ে জানতে জোবাইরুল আরিফের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইশতিয়াক বলেন, “জামায়াতের এলাকার ভোটব্যাংক খুবই শক্ত। নতুন দল এসে এটা ভাঙা সহজ নয়। এনসিপি চাপ তৈরি করছে বটে, কিন্তু জামায়াত আসন ছাড়বে বলে মনে হয় না। আর এখানে জামায়াতের আবু নাসের ভাই নির্বাচন করলে, প্রতিপক্ষের জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হবে।”

অন্যদিকে, এই আসনে বিএনপির নগর আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহও একজন শক্তিশালী প্রার্থী। দীর্ঘদিন সংগঠন দুর্বল থাকলেও ত্রাণ কার্যক্রম, গণসংযোগ এবং গ্রামীণ জনপদে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছেন বলে দলীয় নেতারা মনে করেন। এরশাদ উল্লাহ বলেন, “আমরা জনগণের কল্যাণের রাজনীতি করি। ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার দেখছি। বোয়ালখালীর মানুষের সাড়া আমাদের আশাবাদী করছে।”

স্থানীয় ইস্যুগুলোর মধ্যে জলাবদ্ধতা, খাল–ড্রেন দখল, ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম, মাদক সমস্যা, কিশোর অপরাধ—এসব বিষয়ে ভোটারদের মনোযোগ বেশি। পাঁচলাইশের মধ্যবিত্ত ভোটাররা রাজনৈতিক উত্তেজনার চেয়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সমস্যাকে বেশি গুরুত্ব দেন। চান্দগাঁওয়ের ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী ভোটাররা দলীয় সংগঠনের ওপর নির্ভরশীল। বোয়ালখালীতে ধর্মীয় অনুভূতি এবং ব্যক্তিগত ইমেজ বড় প্রভাব ফেলে।

এমন বাস্তবতায় সাংগঠনিকভাবে সুসংগঠিত অবস্থান এবং শক্তিশালী ভোটব্যাংকের কারণে জামায়াত এই আসন ছাড়তে নারাজ। দলটির ধারণা, মাঠের প্রতিযোগিতা যতই তীব্র হোক, তাদের কোর ভোট ধরে রাখতে পারলে জয় ক্ষতির মুখে পড়বে না।

এছাড়াও, এই আসনে বৃহত্তর সুন্নি জোটের একক প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সৈয়দ হাসান আজহারী। সুন্নি ভোটারের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হলেও প্রার্থী হিসেবে তিনি এখনও তুলনামূলক অপরিচিত। এলাকায় কার্যকর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান না থাকায় অনেক ভোটার তার পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন। স্থানীয় নেতাদের মতে, শেষ মুহূর্তের সুসংগঠিত প্রচারণা এবং জাতীয়–ধর্মীয় ইস্যু ঘিরে ভোটারদের একটি অংশ তাদের দিকে আসতে পারে। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, আজহারীকে এখনও বেশ পিছিয়ে থেকেই লড়াই শুরু করতে হচ্ছে।

সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম–৮ আসনের রাজনীতি এখনো চূড়ান্ত অনিশ্চয়তায় ভরা। জোটে আসন নিয়ে টানাপোড়েন, বিএনপির সক্রিয় মাঠযাত্রা এবং এনসিপির আগ্রাসী উপস্থিতি—সব মিলিয়ে সমীকরণ যেকোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। তবে দলীয় সূত্র বলছে, জোটের চাপ যাই হোক, সংগঠিত ‘গুছানো আসন’ হিসেবে জামায়াত এই আসন ছাড়তে রাজি নয়। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় তাদের আত্মবিশ্বাসই এখন মূল ভরসা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মূল জার্মান থেকে অনূদিত হ্যারমান হেসের গ্রন্থ বইমেলায়

চট্টগ্রাম–৮ আসনে জোটের টানাপোড়েন: জামায়াতের অনমনীয় অবস্থান, এনসিপির দাবি ঘিরে উত্তেজনা

আপডেট সময় : ০৭:০৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–পাঁচলাইশ–চান্দগাঁও) আসনে জোটের সমীকরণ জটিল আকার ধারণ করেছে। শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই আসনটি দাবি করায় জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থী ডা. আবু নাসের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঐতিহ্যগতভাবে জামায়াতের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে দলটির স্থায়ী ভোটব্যাংক, সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক এবং সুপরিচিত প্রার্থীর কারণে তারা আসনটি ছাড়তে নারাজ। এনসিপির আগ্রাসী মনোভাব সত্ত্বেও আসন ভাগাভাগিতে ছাড় না দেওয়ার অবস্থানে অনড় জামায়াত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম–৮ আসনে জামায়াতের রাজনৈতিক কার্যক্রমের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবী ও ত্রাণ কার্যক্রম, এবং স্থানীয় ধর্মীয়–সামাজিক সংযোগের মাধ্যমে এই এলাকায় দলটির একটি মজবুত ভোটভিত্তি তৈরি হয়েছে। গত দেড় বছরে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও দলটি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিল। দলীয় সূত্রের মতে, পাঁচলাইশ–চান্দগাঁওয়ের শহুরে জনগোষ্ঠী এবং বোয়ালখালী এলাকার ধর্মীয়–গ্রামীণ জনপদের ওপর ভিত্তি করে জামায়াত এই আসনকে তাদের ‘নিরাপদ আসন’ হিসেবে বিবেচনা করে। এ কারণেই জোটের ভেতর থেকে এনসিপির প্রবল চাপ থাকলেও আসন ছাড়ার কোনো প্রশ্নই নেই তাদের কাছে।

জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মো. মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “আমাদের প্রার্থী ডা. আবু নাসের এই আসনেরই সন্তান। জন্মলগ্ন থেকে এখানে বড় হয়েছেন, দীর্ঘ বছর ধরে রাজনীতি করছেন এবং মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শুধু গত দেড় বছর নয়, অনেক আগে থেকেই তিনি এলাকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।” তিনি আরও বলেন, “অন্যদিকে, এনসিপির প্রার্থী এতদিন চট্টগ্রাম–১৩ আসনে কাজ করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি চট্টগ্রাম–৮ আসনে সক্রিয় হয়েছেন। তার স্থানীয় ভিত্তি খুবই দুর্বল।” মোরশেদুল মনে করেন, ডা. আবু নাসের ছাড়া এ আসনে অন্য কাউকে প্রার্থী করা হলে কার্যত আসনটি প্রতিপক্ষ দলের হাতে তুলে দেওয়ার শামিল হবে।

জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসের স্থানীয়ভাবে একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক। চিকিৎসাসেবা, রমজানে ইফতার বিতরণ, কোরবানির মাংস বিতরণ, ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি বহু বছর ধরে যুক্ত আছেন। দলের নেতাদের মতে, এসব কার্যক্রম ভোটারদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়েছে। ডা. নাসের বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, গ্রামের মানুষ থেকে শহুরে ভোটার—সব জায়গা থেকেই দারুণ সাড়া পাচ্ছি। ঘরে ঘরে যোগাযোগ করছি এবং মানুষ আশ্বস্ত করছে।”

এদিকে, এনসিপি জোটের ভেতর চট্টগ্রামের এই আসনটি প্রকাশ্যেই দাবি করছে। দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক জোবাইরুল হাসান আরিফ মনোনয়ন পাওয়ার পর মাঠে নেমে আলোচনায় এসেছেন। যদিও তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি অপেক্ষাকৃত দুর্বল, তবু জোটের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন করে ‘নতুন মুখ’ নিয়ে ভোটে লড়তে চায় তারা। এ বিষয়ে জানতে জোবাইরুল আরিফের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

পাঁচলাইশ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইশতিয়াক বলেন, “জামায়াতের এলাকার ভোটব্যাংক খুবই শক্ত। নতুন দল এসে এটা ভাঙা সহজ নয়। এনসিপি চাপ তৈরি করছে বটে, কিন্তু জামায়াত আসন ছাড়বে বলে মনে হয় না। আর এখানে জামায়াতের আবু নাসের ভাই নির্বাচন করলে, প্রতিপক্ষের জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হবে।”

অন্যদিকে, এই আসনে বিএনপির নগর আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহও একজন শক্তিশালী প্রার্থী। দীর্ঘদিন সংগঠন দুর্বল থাকলেও ত্রাণ কার্যক্রম, গণসংযোগ এবং গ্রামীণ জনপদে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছেন বলে দলীয় নেতারা মনে করেন। এরশাদ উল্লাহ বলেন, “আমরা জনগণের কল্যাণের রাজনীতি করি। ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার দেখছি। বোয়ালখালীর মানুষের সাড়া আমাদের আশাবাদী করছে।”

স্থানীয় ইস্যুগুলোর মধ্যে জলাবদ্ধতা, খাল–ড্রেন দখল, ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম, মাদক সমস্যা, কিশোর অপরাধ—এসব বিষয়ে ভোটারদের মনোযোগ বেশি। পাঁচলাইশের মধ্যবিত্ত ভোটাররা রাজনৈতিক উত্তেজনার চেয়ে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সমস্যাকে বেশি গুরুত্ব দেন। চান্দগাঁওয়ের ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী ভোটাররা দলীয় সংগঠনের ওপর নির্ভরশীল। বোয়ালখালীতে ধর্মীয় অনুভূতি এবং ব্যক্তিগত ইমেজ বড় প্রভাব ফেলে।

এমন বাস্তবতায় সাংগঠনিকভাবে সুসংগঠিত অবস্থান এবং শক্তিশালী ভোটব্যাংকের কারণে জামায়াত এই আসন ছাড়তে নারাজ। দলটির ধারণা, মাঠের প্রতিযোগিতা যতই তীব্র হোক, তাদের কোর ভোট ধরে রাখতে পারলে জয় ক্ষতির মুখে পড়বে না।

এছাড়াও, এই আসনে বৃহত্তর সুন্নি জোটের একক প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সৈয়দ হাসান আজহারী। সুন্নি ভোটারের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হলেও প্রার্থী হিসেবে তিনি এখনও তুলনামূলক অপরিচিত। এলাকায় কার্যকর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান না থাকায় অনেক ভোটার তার পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন। স্থানীয় নেতাদের মতে, শেষ মুহূর্তের সুসংগঠিত প্রচারণা এবং জাতীয়–ধর্মীয় ইস্যু ঘিরে ভোটারদের একটি অংশ তাদের দিকে আসতে পারে। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, আজহারীকে এখনও বেশ পিছিয়ে থেকেই লড়াই শুরু করতে হচ্ছে।

সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম–৮ আসনের রাজনীতি এখনো চূড়ান্ত অনিশ্চয়তায় ভরা। জোটে আসন নিয়ে টানাপোড়েন, বিএনপির সক্রিয় মাঠযাত্রা এবং এনসিপির আগ্রাসী উপস্থিতি—সব মিলিয়ে সমীকরণ যেকোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। তবে দলীয় সূত্র বলছে, জোটের চাপ যাই হোক, সংগঠিত ‘গুছানো আসন’ হিসেবে জামায়াত এই আসন ছাড়তে রাজি নয়। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় তাদের আত্মবিশ্বাসই এখন মূল ভরসা।