ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ফেনীতে মাসুম হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ২২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ২২১ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতের বিচারক মো. হাসান এ আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিলকৃত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়ে আদালত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ফেনী কোর্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত সেটি পর্যালোচনা করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এ মামলার উল্লেখযোগ্য অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল এবং ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজি।

এছাড়া অভিযুক্তদের তালিকায় আরও রয়েছেন—ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন, ছাগলনাইয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মোস্তফা এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফেনীর মহিপালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গুলিতে গুরুতর আহত হন মাহমুদুল হাসান মাসুম। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক দিন পর তার মৃত্যু হয়। নিহত মাসুম সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া এলাকার নোমান হাসানের ছেলে এবং ছাগলনাইয়া আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের স্নাতক চূড়ান্ত পর্বের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ৪ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৬২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকশ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল। পুলিশি তদন্ত শেষে মামলার পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে ২২১ জনে দাঁড়ায় এবং আদালত আজ তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে মাসুম হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ২২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ২২১ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতের বিচারক মো. হাসান এ আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিলকৃত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়ে আদালত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ফেনী কোর্ট পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত সেটি পর্যালোচনা করে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এ মামলার উল্লেখযোগ্য অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল এবং ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজি।

এছাড়া অভিযুক্তদের তালিকায় আরও রয়েছেন—ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন, ছাগলনাইয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মোস্তফা এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফেনীর মহিপালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গুলিতে গুরুতর আহত হন মাহমুদুল হাসান মাসুম। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক দিন পর তার মৃত্যু হয়। নিহত মাসুম সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া এলাকার নোমান হাসানের ছেলে এবং ছাগলনাইয়া আবদুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের স্নাতক চূড়ান্ত পর্বের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত ৪ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৬২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকশ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল। পুলিশি তদন্ত শেষে মামলার পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে ২২১ জনে দাঁড়ায় এবং আদালত আজ তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন।