বৈষম্যহীন ও স্বৈরতন্ত্রমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, এই গণভোট কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যতে কোনো অপশক্তি যেন জনগণের কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের পথ রুদ্ধ করতে না পারে, এটি তার রক্ষাকবচ।
বুধবার বিকেলে রংপুরের আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতা ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তে ভেজা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করতে হলে জনগণের সুস্পষ্ট রায় প্রয়োজন। এই রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনের বাংলাদেশের রূপরেখা এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অর্থ হলো একটি বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পথ প্রশস্ত করা।
বিশেষ সহকারী আরও স্পষ্ট করেন যে, এই গণভোটে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হচ্ছে না, বরং এটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পক্ষে জনমত যাচাই। যদি জনরায়ে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়, তবে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলই সংস্কার প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার ধৃষ্টতা দেখাবে না। দীর্ঘ ১৬ বছরের লুটপাট ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এই ভোট হবে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুরক্ষা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেন পুনরায় কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান না ঘটে, সে জন্য দেশের প্রতিটি নাগরিককে সজাগ থাকতে হবে। এই সচেতনতা প্রকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো আসন্ন গণভোট।
বিভাগীয় এই সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন দেশ গড়ার লড়াইয়ে সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























