কক্সবাজারের উখিয়ায় জালিয়াপালং ইউনিয়নের আলোচিত ইউপি সদস্য কামাল হোসেন হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ৮ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহিম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারভুক্ত ৮ আসামি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তা নাকচ করে দেন এবং তাদের সরাসরি জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। অভিযুক্তরা এর আগে উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জুহুর আহমদ চৌধুরী, আবদুর রহিম, তোফায়েল আহমদ, শরিফুল হক সাগর, জহির আহমদ, নুরুল বশর, মোহাম্মদ রিদোয়ান ও শরিফুল হক নাহিদ। তারা সবাই উখিয়ার মনখালী এলাকার বাসিন্দা।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বছরের ৮ জুলাই উখিয়ার মনখালী এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামাল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগের দিন রাতে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের ভাই সাহাব উদ্দিন বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়।
আদালতের এই আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নিহতের ভাই সাহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমার ভাইকে অত্যন্ত নৃশংস ও পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছি। আদালত আসামিদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ায় আইনের শাসনের প্রতি আমাদের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কামাল হোসেনসহ তার পরিবারের মোট তিন ভাই বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
উল্লেখ্য, আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। আদালতের আজকের এই নির্দেশনার ফলে মামলাটি নতুন মোড় নিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 
























