ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি: আড়াইহাজারে প্রশাসনের সচেতনতামূলক সভা

দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সুসংহত করতে এবং নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটারদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এক বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা ভোটাধিকারকে কেবল নাগরিক অধিকার নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতি একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।

বুধবার বিকেলে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও এপিএমবি) সালমা খাতুন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দুপ্তারা ইউনিয়নের প্রশাসক ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আয়েশা খাতুন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমা খাতুন বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হলো জনমতামত প্রতিফলনের প্রধান মাধ্যম। একটি সফল ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পূর্ণতা দেয়। তিনি আরও বলেন, সাধারণ ভোটাররা গণভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ পান। তাই কোনো যোগ্য নাগরিক যেন ভোট প্রদান থেকে বিরত না থাকেন, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোস্তাফিজুর রহমান ইমন, উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং আড়াইহাজার থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ। বক্তারা জানান, নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার, নারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ভোটদান প্রক্রিয়া সহজতর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

বিভাগীয় ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর কৌশল এবং গণভোটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে ব্যাখ্যা করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা হচ্ছে যাতে তারা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

সভা শেষে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল উপজেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। কেন্দ্রগুলো হলো— ছনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিবপুর মাদরাসা এবং চামুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা নির্বাচনি অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটারদের প্রবেশগম্যতাসহ সার্বিক প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন শেষে তারা জানান, কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের উপযোগী পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে।

পরিশেষে, আড়াইহাজারে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ পথচলায় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রত্যেক ভোটারকে নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি: আড়াইহাজারে প্রশাসনের সচেতনতামূলক সভা

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সুসংহত করতে এবং নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটারদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এক বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা ভোটাধিকারকে কেবল নাগরিক অধিকার নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতি একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।

বুধবার বিকেলে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও এপিএমবি) সালমা খাতুন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দুপ্তারা ইউনিয়নের প্রশাসক ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আয়েশা খাতুন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমা খাতুন বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট হলো জনমতামত প্রতিফলনের প্রধান মাধ্যম। একটি সফল ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে পূর্ণতা দেয়। তিনি আরও বলেন, সাধারণ ভোটাররা গণভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ পান। তাই কোনো যোগ্য নাগরিক যেন ভোট প্রদান থেকে বিরত না থাকেন, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোস্তাফিজুর রহমান ইমন, উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং আড়াইহাজার থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ। বক্তারা জানান, নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার, নারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ভোটদান প্রক্রিয়া সহজতর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

বিভাগীয় ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর কৌশল এবং গণভোটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে ব্যাখ্যা করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা হচ্ছে যাতে তারা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

সভা শেষে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল উপজেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। কেন্দ্রগুলো হলো— ছনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিবপুর মাদরাসা এবং চামুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা নির্বাচনি অবকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটারদের প্রবেশগম্যতাসহ সার্বিক প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন শেষে তারা জানান, কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের উপযোগী পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে।

পরিশেষে, আড়াইহাজারে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ পথচলায় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রত্যেক ভোটারকে নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।