ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

নিরাপত্তা শঙ্কায় পেছাল অ্যাডভোকেট আলিফ হত্যা মামলার চার্জগঠন, পরবর্তী শুনানি ১৯ জানুয়ারি

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমে অভিযোগ গঠন (চার্জগঠন) পিছিয়ে গেছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় বুধবার মামলাটির নির্ধারিত চার্জগঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। আদালত আগামী ১৯ জানুয়ারি উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

বুধবার বিকেলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার ২২ জন আসামিকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জাহিদুল হক এজলাসে উপস্থিত হয়ে আসামিদের নাম ধরে হাজিরা নিশ্চিত করেন। শুনানিকালে বিচারক জানান, মামলার প্রথম কার্যদিবস হিসেবে নথিপত্র প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। আগামী ১৯ জানুয়ারি চার্জগঠন বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, মামলার অন্যতম প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে এদিন আদালতে উপস্থিত করা সম্ভব হয়নি। আদালত সূত্রে জানা গেছে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আদালতে হাজির করতে হলে অন্তত ৭০০ থেকে এক হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় তার অনুপস্থিতিতেই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী কারাগারে থাকা বাকি আসামিদের বিকেল ৩টায় কাঠগড়ায় তোলা হয়।

শুনানি চলাকালে কয়েকজন আসামি আদালতের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তারা নিজেদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান। জবাবে বিচারক তাদের আইনানুগভাবে আইনজীবী নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাস দেন। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের জন্য আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টিও আদালত বিবেচনা করবেন বলে উল্লেখ করেন। এ সময় বিচারক মন্তব্য করেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার এই পর্যায়ে কাউকেই চূড়ান্তভাবে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না; কেবল সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হলে তবেই বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে আদালতের কার্যক্রম চলাকালে বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। আদালত চত্বরে আসামিদের স্বজন ও সনাতন সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে অনুসারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। সেই সংঘর্ষের একপর্যায়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় আলিফের বাবা কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নামও এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপত্তা শঙ্কায় পেছাল অ্যাডভোকেট আলিফ হত্যা মামলার চার্জগঠন, পরবর্তী শুনানি ১৯ জানুয়ারি

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমে অভিযোগ গঠন (চার্জগঠন) পিছিয়ে গেছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় বুধবার মামলাটির নির্ধারিত চার্জগঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। আদালত আগামী ১৯ জানুয়ারি উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

বুধবার বিকেলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার ২২ জন আসামিকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জাহিদুল হক এজলাসে উপস্থিত হয়ে আসামিদের নাম ধরে হাজিরা নিশ্চিত করেন। শুনানিকালে বিচারক জানান, মামলার প্রথম কার্যদিবস হিসেবে নথিপত্র প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। আগামী ১৯ জানুয়ারি চার্জগঠন বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, মামলার অন্যতম প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে এদিন আদালতে উপস্থিত করা সম্ভব হয়নি। আদালত সূত্রে জানা গেছে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আদালতে হাজির করতে হলে অন্তত ৭০০ থেকে এক হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় তার অনুপস্থিতিতেই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী কারাগারে থাকা বাকি আসামিদের বিকেল ৩টায় কাঠগড়ায় তোলা হয়।

শুনানি চলাকালে কয়েকজন আসামি আদালতের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তারা নিজেদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান। জবাবে বিচারক তাদের আইনানুগভাবে আইনজীবী নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাস দেন। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের জন্য আইনজীবী নিয়োগের বিষয়টিও আদালত বিবেচনা করবেন বলে উল্লেখ করেন। এ সময় বিচারক মন্তব্য করেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার এই পর্যায়ে কাউকেই চূড়ান্তভাবে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না; কেবল সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হলে তবেই বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে আদালতের কার্যক্রম চলাকালে বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। আদালত চত্বরে আসামিদের স্বজন ও সনাতন সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে অনুসারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। সেই সংঘর্ষের একপর্যায়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় আলিফের বাবা কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০–১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নামও এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।