ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনি সমঝোতায় শরিকদের আসন ছাড় বিএনপির

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। তবে শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনড় অবস্থান এখন দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের লক্ষ্যে শরিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য বজায় রাখতে ১৭টি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিদিন গুলশান কার্যালয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলে তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাচ্ছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, দল ক্ষমতায় গেলে ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও শতাধিক আসনে এখনও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

শরিকদের জন্য নির্ধারিত প্রধান আসন ও প্রার্থীরা:

নির্বাচনী এলাকামনোনীত শরিক প্রার্থী ও দল
বগুড়া-২মাহমুদুর রহমান মান্না (নাগরিক ঐক্য)
ভোলা-১আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি)
পটুয়াখালী-৩নুরুল হক নুর (গণঅধিকার পরিষদ)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন)
ঢাকা-১২সাইফুল হক (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি)
ঢাকা-১৩ববি হাজ্জাজ (এনডিএম)
সিলেট-৫মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক (জমিয়ত)

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা:

বিএনপির ভেতরে ও বাইরে নির্বাচনি উত্তাপ বাড়ার সাথে সাথে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পটুয়াখালী-৩, ঢাকা-১২ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে শরিকদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ইতোমধ্যে ১০ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁরা বিদ্রোহীদের সময় দেবেন। এরপরও কেউ নির্বাচনে বহাল থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে থাকা সাবেক এমপি আবদুল খালেক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ২৯৮টি আসনের মধ্যে অন্তত ৯৩টিতে এখনও বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি দল মনোনীত প্রার্থীদের জন্য বাড়তি চাপের সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০ জানুয়ারির মধ্যে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ফেলতে না পারলে অনেক আসনে ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি বড় ধরনের হোঁচট খেতে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

যাত্রাবাড়ীতে চলন্ত গাড়িতে ছিনতাই: দেশীয় অস্ত্রসহ দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

নির্বাচনি সমঝোতায় শরিকদের আসন ছাড় বিএনপির

আপডেট সময় : ০১:০০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। তবে শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের অনড় অবস্থান এখন দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের লক্ষ্যে শরিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য বজায় রাখতে ১৭টি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিদিন গুলশান কার্যালয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলে তাঁদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাচ্ছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, দল ক্ষমতায় গেলে ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও শতাধিক আসনে এখনও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

শরিকদের জন্য নির্ধারিত প্রধান আসন ও প্রার্থীরা:

নির্বাচনী এলাকামনোনীত শরিক প্রার্থী ও দল
বগুড়া-২মাহমুদুর রহমান মান্না (নাগরিক ঐক্য)
ভোলা-১আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি)
পটুয়াখালী-৩নুরুল হক নুর (গণঅধিকার পরিষদ)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন)
ঢাকা-১২সাইফুল হক (বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি)
ঢাকা-১৩ববি হাজ্জাজ (এনডিএম)
সিলেট-৫মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক (জমিয়ত)

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা:

বিএনপির ভেতরে ও বাইরে নির্বাচনি উত্তাপ বাড়ার সাথে সাথে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পটুয়াখালী-৩, ঢাকা-১২ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে শরিকদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ইতোমধ্যে ১০ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁরা বিদ্রোহীদের সময় দেবেন। এরপরও কেউ নির্বাচনে বহাল থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে থাকা সাবেক এমপি আবদুল খালেক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ২৯৮টি আসনের মধ্যে অন্তত ৯৩টিতে এখনও বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি দল মনোনীত প্রার্থীদের জন্য বাড়তি চাপের সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০ জানুয়ারির মধ্যে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ফেলতে না পারলে অনেক আসনে ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি বড় ধরনের হোঁচট খেতে পারে।