ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন: ওয়াশিংটনে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আর্কটিকের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে চলমান তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিরসনের লক্ষ্যে আজ বুধবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসছেন ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রকাশ্য ইচ্ছাপ্রকাশের পর থেকেই এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও জনবিরল এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় এক বছর আগে ক্ষমতায় ফেরার পর এবং সম্প্রতি গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় এক প্রাণঘাতী মার্কিন অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার পর—যা দেশটির প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করে—গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ট্রাম্প আরও আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন।

গত শুক্রবার ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি গ্রিনল্যান্ড চান ‘তারা চাইুক বা না চাইুক’ এবং ‘সহজ পথে না হলে কঠিন পথেই নেওয়া হবে’। তার যুক্তি, রাশিয়া বা চীনের সম্ভাব্য প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ড অপরিহার্য। যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলে যাওয়ায় আর্কটিকে রাশিয়া ও চীনের তৎপরতা বাড়লেও, তারা কেউই গ্রিনল্যান্ডের ওপর কোনো দাবি জানায়নি। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের স্বায়ত্তশাসনের অধীনে থাকার ইচ্ছার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ওটা তাদের সমস্যা।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘লোকটাকে আমি চিনি না, কিন্তু এটা তার জন্য বড় সমস্যা হতে যাচ্ছে’।”

এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যেই ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাসমুসেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে এটি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের অনুরোধ জানিয়ে রাসমুসেন বলেন, তিনি “কিছু ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে” চান। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিকে আদৌ ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখছে কি না এবং তাদের অবস্থান নরম করতে চায় কি না—তা এখনো অনিশ্চিত।

এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্টও অংশ নেবেন। গ্রিনল্যান্ড সরকার ও ডেনমার্ক—উভয়ই ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। হোয়াইট হাউস বৈঠকের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেদেরিক নিলসেন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “একটি বিষয় সবার কাছে পরিষ্কার হওয়া উচিত—গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় যেতে চায় না, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা শাসিত হতে চায় না, কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না।”

বৈঠকটি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত হবে কি না, তা এখনো জানানো হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উন্মুক্ত না হলে টেলিভিশনে প্রচারিত কোনো তিক্ত সংঘাতের আশঙ্কা কমবে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক জার্মান মার্শাল ফান্ডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পেনি নাস বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি বলে—‘যেকোনো মূল্যে আমাদের গ্রিনল্যান্ড চাই’—তাহলে বৈঠক খুবই সংক্ষিপ্ত হতে পারে। তবে সামান্য নমনীয়তা থাকলে ভিন্ন আলোচনা সম্ভব।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শরিফুলের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন: তপ্ত গরমে কিউইদের নাভিশ্বাস

গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন: ওয়াশিংটনে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক

আপডেট সময় : ০৯:২৯:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আর্কটিকের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে চলমান তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিরসনের লক্ষ্যে আজ বুধবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে বসছেন ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রকাশ্য ইচ্ছাপ্রকাশের পর থেকেই এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও জনবিরল এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় এক বছর আগে ক্ষমতায় ফেরার পর এবং সম্প্রতি গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় এক প্রাণঘাতী মার্কিন অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার পর—যা দেশটির প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করে—গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ট্রাম্প আরও আত্মবিশ্বাসী ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন।

গত শুক্রবার ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি গ্রিনল্যান্ড চান ‘তারা চাইুক বা না চাইুক’ এবং ‘সহজ পথে না হলে কঠিন পথেই নেওয়া হবে’। তার যুক্তি, রাশিয়া বা চীনের সম্ভাব্য প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ড অপরিহার্য। যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলে যাওয়ায় আর্কটিকে রাশিয়া ও চীনের তৎপরতা বাড়লেও, তারা কেউই গ্রিনল্যান্ডের ওপর কোনো দাবি জানায়নি। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের স্বায়ত্তশাসনের অধীনে থাকার ইচ্ছার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ওটা তাদের সমস্যা।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘লোকটাকে আমি চিনি না, কিন্তু এটা তার জন্য বড় সমস্যা হতে যাচ্ছে’।”

এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যেই ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাসমুসেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে এটি হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের অনুরোধ জানিয়ে রাসমুসেন বলেন, তিনি “কিছু ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে” চান। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিকে আদৌ ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখছে কি না এবং তাদের অবস্থান নরম করতে চায় কি না—তা এখনো অনিশ্চিত।

এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্টও অংশ নেবেন। গ্রিনল্যান্ড সরকার ও ডেনমার্ক—উভয়ই ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। হোয়াইট হাউস বৈঠকের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেদেরিক নিলসেন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “একটি বিষয় সবার কাছে পরিষ্কার হওয়া উচিত—গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় যেতে চায় না, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা শাসিত হতে চায় না, কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না।”

বৈঠকটি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত হবে কি না, তা এখনো জানানো হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উন্মুক্ত না হলে টেলিভিশনে প্রচারিত কোনো তিক্ত সংঘাতের আশঙ্কা কমবে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক জার্মান মার্শাল ফান্ডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পেনি নাস বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি বলে—‘যেকোনো মূল্যে আমাদের গ্রিনল্যান্ড চাই’—তাহলে বৈঠক খুবই সংক্ষিপ্ত হতে পারে। তবে সামান্য নমনীয়তা থাকলে ভিন্ন আলোচনা সম্ভব।”