জাতীয় নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট এই জটিলতা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আলোচনার পর আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে, যখন নির্বাচন কমিশন থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্য কোনো নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না। এই খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করেন এবং পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আন্দোলন চলাকালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা উপাচার্য ভবন ও গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নেন। অন্যদিকে, শাকসু নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। রাতভর চলা এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিজয় ২৪ হলের এক ভিপি পদপ্রার্থী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হন শাকসু নির্বাচন কমিশনাররা। তবে শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে ব্যর্থ হয়ে তারা বিষয়টি উপ-উপাচার্যকে অবহিত করেন। পরে উপ-উপাচার্য ক্যাম্পাসে এসে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এবং পরবর্তীতে প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।
আলোচনা চলাকালে উপ-উপাচার্য জানান, উপাচার্য বর্তমানে দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকেন এবং আগামী ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত শাকসু নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ উত্তর দাবি করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরামর্শে উপ-উপাচার্য তাৎক্ষণিকভাবে উপাচার্যের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। উপাচার্য জানান, আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তার পূর্বনির্ধারিত বৈঠক রয়েছে। বৈঠক শেষে তিনি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবেন।
শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হলে শিক্ষার্থীরা আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত আলটিমেটাম দেন। এই সময়ের মধ্যে উপাচার্যকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে শাকসু নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। বিকেল ৫টার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী বার্তা আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রিপোর্টারের নাম 

























