বগুড়ার গাবতলীতে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পূর্বের একটি মামলার প্রধান সাক্ষীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় নারীসহ আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের জাতহলিদা মধ্যপাড়া গ্রামে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাতহলিদা গ্রামের মৃত আজিজার রহমানের ছেলে আতাউর রহমানের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত বুলু প্রামাণিকের ছেলে মন্টু, বাবুল ও মামুনের মধ্যে জমি ও বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। প্রায় দেড় বছর আগে এই বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনা ঘটে, যেখানে এরশাদ নামের একজন গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় এরশাদের ভাই আতাউর রহমান বাদী হয়ে গাবতলী মডেল থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। নিহত আবু বক্কর সিদ্দিক (৫৬) ছিলেন ওই মামলার প্রধান সাক্ষী এবং তিনি একজন এনজিও কর্মী ছিলেন।
মামলার পর থেকেই আসামিরা আবু বক্কর সিদ্দিককে সাক্ষী না দেওয়ার জন্য হত্যাসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার দিন গত সোমবার মাগরিবের নামাজের পর প্রতিপক্ষরা মামলার বাদী আতাউর রহমানের বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এই খবর পেয়ে স্থানীয় বুরুজ বাজার থেকে সাক্ষী আবু বক্কর সিদ্দিক এবং বাদী আতাউর রহমান মোটরসাইকেলে করে বাড়ির দিকে রওনা হন। পথে ওঁত পেতে থাকা হামলাকারীরা চলন্ত মোটরসাইকেলের ওপর হামলা চালিয়ে আতাউর রহমানকে আহত করে। একই সময়ে তারা আবু বক্কর সিদ্দিকের মাথা লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু বক্কর সিদ্দিককে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য চারজনকে ওই হাসপাতালেই ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান আনিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাড়ির সীমানা ও জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। পূর্বের মামলার সাক্ষী আবু বক্কর সিদ্দিক নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত আবু বক্কর সিদ্দিকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























