যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষার জন্য যুদ্ধে জড়াতে চায়, তবে তেহরান সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত বলে সতর্ক করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরাগচি এই কথা বলেন। তিনি বলেন, গত বছরের জুন মাসের তুলনায় বর্তমানে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত। যদি ওয়াশিংটন ইরানের সামরিক শক্তি পরীক্ষা করতে চায়, তবে তার জন্য ইরান প্রস্তুত। আরাগচি আশা প্রকাশ করেন যে, ওয়াশিংটন বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে আলোচনার পথ বেছে নেবে। একই সঙ্গে, যারা ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতে জড়াতে প্ররোচিত করছে, তাদের প্রতিও তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন যে, বিক্ষোভের মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করেছে। তার অভিযোগ, এই গোষ্ঠীগুলো বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। এই ধর্মঘট থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের প্রায় সব শহর ও গ্রামে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং এর তীব্রতা বাড়তে থাকে, যা দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তিনি একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানি সরকার যদি কঠোরভাবে আন্দোলন দমন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
এর বিপরীতে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, তার সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত এবং সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের পথে এগোবে।
রিপোর্টারের নাম 























