ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুর-৬ আসনে একই গ্রাম থেকে দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটারদের আগ্রহ তুঙ্গে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৬ (নবাবগঞ্জ-বিরামপুর, ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর) আসনে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। এই আসনে নবাবগঞ্জ উপজেলার একই গ্রাম থেকে দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে দুইজন নেতা সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতিমধ্যেই উভয় প্রার্থী তাদের নিজ নিজ দল থেকে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন লাভ করেছেন এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় তাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, নবাবগঞ্জ উপজেলার ভোটারপাড়া (সোনালীপাড়া) গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে আব্দুল হাকিম বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি জেলা বাসদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। অন্যদিকে, একই উপজেলার ভোটারপাড়া (ঘোড়াপাড়া) গ্রামের মরহুম আহম্মদ আলীর ছেলে রেজাউল হক জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।

বাসদের পক্ষ থেকে আব্দুল হাকিমের প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। একইভাবে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে রেজাউল হকের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি পুরো উপজেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাকে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন।

এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল রুমন বলেন, “আমাদের গ্রাম থেকে একসঙ্গে দুইজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ায় আমরা গর্বিত। এতে আমাদের গ্রাম ও এলাকার পরিচিতি আরও বেড়েছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়।” আরেক বাসিন্দা আরমান হোসেন মন্তব্য করেন, “একই এলাকা থেকে দুইজন যোগ্য প্রার্থী পাওয়া নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যের ব্যাপার। জনগণ যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই নির্বাচিত করবে। সময়ই বলে দেবে কে সফল হন।”

বাসদের প্রার্থী আব্দুল হাকিম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “একই গ্রাম থেকে দুইজন প্রার্থী হলেও আমি সুস্থ প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী। আমি মনে করি, জনগণ যাকে চাইবে, তিনিই জনপ্রতিনিধি হবেন। যদি জনগণ আমাকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেন, তাহলে এলাকার উন্নয়নসহ রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণে কাজ করে যাবো।”

জাতীয় পার্টির প্রার্থী রেজাউল হক বলেন, “একই গ্রাম থেকে দু’জন সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়া আমাদের এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। এটি প্রমাণ করে যে এই গ্রামে যোগ্য ও নেতৃত্বদানে সক্ষম মানুষ রয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে যিনি জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন পাবেন, তিনিই এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবেন। আমি সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করি।”

দিনাজপুর-৬ আসনে এই দুই প্রার্থীর পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও দিনাজপুর দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি নূর আলম সিদ্দিক, এবি পার্টির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহনেওয়াজ শুভ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিশ্বব্যাপী বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ধাক্কা

দিনাজপুর-৬ আসনে একই গ্রাম থেকে দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটারদের আগ্রহ তুঙ্গে

আপডেট সময় : ১০:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-৬ (নবাবগঞ্জ-বিরামপুর, ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর) আসনে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। এই আসনে নবাবগঞ্জ উপজেলার একই গ্রাম থেকে দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে দুইজন নেতা সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতিমধ্যেই উভয় প্রার্থী তাদের নিজ নিজ দল থেকে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন লাভ করেছেন এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় তাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা গেছে, নবাবগঞ্জ উপজেলার ভোটারপাড়া (সোনালীপাড়া) গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে আব্দুল হাকিম বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি জেলা বাসদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। অন্যদিকে, একই উপজেলার ভোটারপাড়া (ঘোড়াপাড়া) গ্রামের মরহুম আহম্মদ আলীর ছেলে রেজাউল হক জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।

বাসদের পক্ষ থেকে আব্দুল হাকিমের প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। একইভাবে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে রেজাউল হকের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি পুরো উপজেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাকে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন।

এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল রুমন বলেন, “আমাদের গ্রাম থেকে একসঙ্গে দুইজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ায় আমরা গর্বিত। এতে আমাদের গ্রাম ও এলাকার পরিচিতি আরও বেড়েছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়।” আরেক বাসিন্দা আরমান হোসেন মন্তব্য করেন, “একই এলাকা থেকে দুইজন যোগ্য প্রার্থী পাওয়া নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যের ব্যাপার। জনগণ যাকে যোগ্য মনে করবে, তাকেই নির্বাচিত করবে। সময়ই বলে দেবে কে সফল হন।”

বাসদের প্রার্থী আব্দুল হাকিম তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “একই গ্রাম থেকে দুইজন প্রার্থী হলেও আমি সুস্থ প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী। আমি মনে করি, জনগণ যাকে চাইবে, তিনিই জনপ্রতিনিধি হবেন। যদি জনগণ আমাকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেন, তাহলে এলাকার উন্নয়নসহ রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণে কাজ করে যাবো।”

জাতীয় পার্টির প্রার্থী রেজাউল হক বলেন, “একই গ্রাম থেকে দু’জন সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়া আমাদের এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। এটি প্রমাণ করে যে এই গ্রামে যোগ্য ও নেতৃত্বদানে সক্ষম মানুষ রয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে যিনি জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন পাবেন, তিনিই এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবেন। আমি সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করি।”

দিনাজপুর-৬ আসনে এই দুই প্রার্থীর পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও দিনাজপুর দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি নূর আলম সিদ্দিক, এবি পার্টির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহনেওয়াজ শুভ।