ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

আসামে ভয়াবহ বন্যা: ২৪ ঘণ্টায় ২১ জনের মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১

ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যাজনিত দুর্ঘটনায় আরও ২১ জন মারা গেছেন, যার ফলে চলতি বছরের বন্যায় রাজ্যে মোট মৃতের সংখ্যা ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ১৬টি জেলার প্রায় পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন বলে জানিয়েছে আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)।

আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মঙ্গলবার গভীর রাতের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে শিবসাগর জেলায়। এছাড়া চরাইদেও জেলায় ৫ জন, গোলাঘাটে ২ জন এবং যোরহাটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বুধবার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো সফরে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, উজানে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট এই ভয়াবহ বন্যায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে তিনি চরাইদেও, নজিরা, শিবসাগর, সোনারি, যোরহাট এবং তেওক এলাকার বন্যাদুর্গত অঞ্চল ও ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করবেন।

এএসডিএমএ জানিয়েছে, গোলাঘাট, কামরূপ, হোজাই, ডিব্রুগড়, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, সোনিতপুর, উদালগুড়ি, নগাঁও, চরাইদেও, কামরূপ (মেট্রো), যোরহাট, তিনসুকিয়া, কার্বি আংলং, লখিমপুর এবং শিবসাগর—এই ১৬টি জেলার মোট ৫ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬০০ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সোমবার এই সংখ্যা ছিল ১৫টি জেলার ৩ লক্ষ ৬৩ হাজারেরও বেশি।

রাজ্যের ৪৪টি রাজস্ব চক্রের অধীন মোট ৮৭২টি গ্রাম এখনো প্লাবিত রয়েছে। এর মধ্যে শিবসাগর জেলায় সর্বাধিক তিন লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৫ জন, যোরহাটে ৮৭ হাজার ৬৬২ জন এবং চরাইদেও জেলায় ৭২ হাজার ৬৪৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ৭১টি ত্রাণ শিবিরে ১২ হাজার ২৮৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন এবং ২০২টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জমি দখল, ঘুষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীদের নিয়ে অনৈতিক কাজের গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা

আসামে ভয়াবহ বন্যা: ২৪ ঘণ্টায় ২১ জনের মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১

আপডেট সময় : ১০:১১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যাজনিত দুর্ঘটনায় আরও ২১ জন মারা গেছেন, যার ফলে চলতি বছরের বন্যায় রাজ্যে মোট মৃতের সংখ্যা ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ১৬টি জেলার প্রায় পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন বলে জানিয়েছে আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)।

আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মঙ্গলবার গভীর রাতের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে শিবসাগর জেলায়। এছাড়া চরাইদেও জেলায় ৫ জন, গোলাঘাটে ২ জন এবং যোরহাটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বুধবার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো সফরে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, উজানে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট এই ভয়াবহ বন্যায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে তিনি চরাইদেও, নজিরা, শিবসাগর, সোনারি, যোরহাট এবং তেওক এলাকার বন্যাদুর্গত অঞ্চল ও ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করবেন।

এএসডিএমএ জানিয়েছে, গোলাঘাট, কামরূপ, হোজাই, ডিব্রুগড়, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, সোনিতপুর, উদালগুড়ি, নগাঁও, চরাইদেও, কামরূপ (মেট্রো), যোরহাট, তিনসুকিয়া, কার্বি আংলং, লখিমপুর এবং শিবসাগর—এই ১৬টি জেলার মোট ৫ লক্ষ ৬৪ হাজার ৬০০ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সোমবার এই সংখ্যা ছিল ১৫টি জেলার ৩ লক্ষ ৬৩ হাজারেরও বেশি।

রাজ্যের ৪৪টি রাজস্ব চক্রের অধীন মোট ৮৭২টি গ্রাম এখনো প্লাবিত রয়েছে। এর মধ্যে শিবসাগর জেলায় সর্বাধিক তিন লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৫ জন, যোরহাটে ৮৭ হাজার ৬৬২ জন এবং চরাইদেও জেলায় ৭২ হাজার ৬৪৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ৭১টি ত্রাণ শিবিরে ১২ হাজার ২৮৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন এবং ২০২টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে।