ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপ: মেসির শেষ পারফরম্যান্স, বিতর্ক ও উল্লেখযোগ্য ঘটনা

২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু স্পেনের শিরোপা জয় কিংবা লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপের গল্প নয়। এই মহাযজ্ঞে জন্ম হয়েছে অসংখ্য রূপকথার, তেমনি জন্ম হয়েছে বিতর্ক, সমালোচনা ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তের। কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য যাত্রা, নরওয়ের ইতিহাস গড়া, এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুর্দান্ত গোলকিপিং বা লামিনে ইয়ামালের উত্থান যেখানে কোটি দর্শককে মুগ্ধ করেছে, ঠিক সেখানেই টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম, ভিএআর বিতর্ক, রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ, ফাইনালের পর খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ এবং ফিফার বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনাও বিশ্বজুড়ে হয়েছে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের ঘটনাগুলোও সমানভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত ও বিতর্কিত ১৫ ঘটনার দিকে আলোকপাত করা যাক।

শেষ বিশ্বকাপে ‘মেসি ম্যানিয়া’
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই প্রশ্ন উঠেছিল, ৩৯ বছর বয়সে লিওনেল মেসি কি আরেকবার আর্জেন্টিনাকে টেনে নিতে পারবেন, নাকি বয়সের ভারে হার মানবেন। টুর্নামেন্ট শেষেও উত্তর মেসির পক্ষেই গেল। ফাইনালে শিরোপা না জিতলেও পুরো আসরের সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলার ছিলেন তিনিই। গ্রুপ পর্ব থেকেই আক্রমণের নেতৃত্ব দেন মেসি। শেষ ষোলোতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে টানা অষ্টম ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়েন। সে ম্যাচে তিনি বিশ্বকাপে ৩০ ম্যাচ খেলা প্রথম ফুটবলারও হন।

নকআউট পর্বে গোলের পাশাপাশি প্লে-মেকার হিসেবেও দারুণ কার্যকর ছিলেন তিনি। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে ব্যস্ত রেখেছেন, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন। টুর্নামেন্টজুড়ে তার প্রতিটি স্পর্শই ছিল আলোচনার বিষয়। ফাইনালে অবশ্য স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ তাকে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে দেয়। পুরো ম্যাচে মাত্র ৫৪ বার বল স্পর্শ করেন, যা তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের হতাশাজনক রেকর্ড। আর্জেন্টিনা গোলমুখে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।

শেষ বাঁশির পর মেসির অশ্রুসিক্ত মুখ বিশ্বকাপের অন্যতম প্রতীকী ছবিতে পরিণত হয়। এমনকি স্পেনের অধিনায়ক রদ্রিও ট্রফি হাতে নেওয়ার পর প্রথমেই মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এটা অবশ্য স্বাভাবিক। এক হ্যাটট্রিকসহ অগুনতি রেকর্ডের মালা গলায় পরে আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করা তো শ্রদ্ধারই। সব মিলিয়ে ছয় বিশ্বকাপে ২১ গোল আর ১২ অ্যাসিস্ট নিয়ে কিংবদন্তির কাতারে আছেন মেসি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জমি দখল, ঘুষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীদের নিয়ে অনৈতিক কাজের গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা

২০২৬ বিশ্বকাপ: মেসির শেষ পারফরম্যান্স, বিতর্ক ও উল্লেখযোগ্য ঘটনা

আপডেট সময় : ১০:১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু স্পেনের শিরোপা জয় কিংবা লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপের গল্প নয়। এই মহাযজ্ঞে জন্ম হয়েছে অসংখ্য রূপকথার, তেমনি জন্ম হয়েছে বিতর্ক, সমালোচনা ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তের। কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য যাত্রা, নরওয়ের ইতিহাস গড়া, এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুর্দান্ত গোলকিপিং বা লামিনে ইয়ামালের উত্থান যেখানে কোটি দর্শককে মুগ্ধ করেছে, ঠিক সেখানেই টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম, ভিএআর বিতর্ক, রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ, ফাইনালের পর খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ এবং ফিফার বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনাও বিশ্বজুড়ে হয়েছে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের ঘটনাগুলোও সমানভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত ও বিতর্কিত ১৫ ঘটনার দিকে আলোকপাত করা যাক।

শেষ বিশ্বকাপে ‘মেসি ম্যানিয়া’
২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই প্রশ্ন উঠেছিল, ৩৯ বছর বয়সে লিওনেল মেসি কি আরেকবার আর্জেন্টিনাকে টেনে নিতে পারবেন, নাকি বয়সের ভারে হার মানবেন। টুর্নামেন্ট শেষেও উত্তর মেসির পক্ষেই গেল। ফাইনালে শিরোপা না জিতলেও পুরো আসরের সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলার ছিলেন তিনিই। গ্রুপ পর্ব থেকেই আক্রমণের নেতৃত্ব দেন মেসি। শেষ ষোলোতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে টানা অষ্টম ম্যাচে গোল করার রেকর্ড গড়েন। সে ম্যাচে তিনি বিশ্বকাপে ৩০ ম্যাচ খেলা প্রথম ফুটবলারও হন।

নকআউট পর্বে গোলের পাশাপাশি প্লে-মেকার হিসেবেও দারুণ কার্যকর ছিলেন তিনি। প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে ব্যস্ত রেখেছেন, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন। টুর্নামেন্টজুড়ে তার প্রতিটি স্পর্শই ছিল আলোচনার বিষয়। ফাইনালে অবশ্য স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ তাকে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে দেয়। পুরো ম্যাচে মাত্র ৫৪ বার বল স্পর্শ করেন, যা তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের হতাশাজনক রেকর্ড। আর্জেন্টিনা গোলমুখে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।

শেষ বাঁশির পর মেসির অশ্রুসিক্ত মুখ বিশ্বকাপের অন্যতম প্রতীকী ছবিতে পরিণত হয়। এমনকি স্পেনের অধিনায়ক রদ্রিও ট্রফি হাতে নেওয়ার পর প্রথমেই মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এটা অবশ্য স্বাভাবিক। এক হ্যাটট্রিকসহ অগুনতি রেকর্ডের মালা গলায় পরে আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করা তো শ্রদ্ধারই। সব মিলিয়ে ছয় বিশ্বকাপে ২১ গোল আর ১২ অ্যাসিস্ট নিয়ে কিংবদন্তির কাতারে আছেন মেসি।