ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার বিচ্ছিন্ন চর বাসনভাঙ্গায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে চাঁচড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সবুজ তালুকদারের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক কৃষকদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সবুজ তালুকদার দাবি করেছেন, তিনি সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নির্দেশে ওই চরে গিয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে চর বাসনভাঙ্গার কৃষকেরা নিজেদের দখলে থাকা জমিতে আলু, মরিচ, রসুনসহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষ করে আসছেন। স্থানীয় সূত্র ও আহতদের ভাষ্যমতে, শনিবার দুপুরে চাঁচড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজ তালুকদারের নেতৃত্বে প্রায় ৬০-৭০ জনের একটি সশস্ত্র দল চরে প্রবেশ করে। তারা ফসলি জমিতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দখলের চেষ্টা করলে কৃষকেরা তাতে বাধা দেন। এ সময় হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কৃষকদের ওপর চড়াও হয়।
হামলায় সবুজ মাঝি (৬৫), নিরব (৪৫), মো. রাসেল (১৫), শারমিন (৩০), সিরাজ (৪৫), মামুন (৪০), ফয়সাল (২৭), নুরনবী (৪৫), জান্নাত (২৮) সহ অন্তত ১৪ জন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত সবুজ মাঝি, নিরব ও মো. রাসেলকে কোস্টগার্ড ও পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
হামলার শিকার মো. নিরব মিয়া বলেন, ‘চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদারের নির্দেশে সবুজ তালুকদারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমাদের ফসলি জমি দখলের চেষ্টা করে। আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমি সহ ১৪ জন আহত হয়েছি। এ ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সবুজ তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতা, সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর নির্দেশে ওই চরে গিয়েছি। এই চরটি ২০০৩ সালে ভূমিহীন পরিবারদের মাঝে বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতারা এই চর দখল করে নেয়। ওই জমি উদ্ধারের জন্য আমরা সেখানে গিয়ে জমির বাঁধ কেটে দিয়েছি। আমরা কাউকে মারধর করিনি।’
অপর অভিযুক্ত ও সদ্য বহিষ্কৃত চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু মুঠোফোনে জানান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এরকম কোনো নির্দেশ কাউকে দেননি। এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরীফ হাওলাদার বলেন, ‘সবুজ তালুকদারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তজুমদ্দিন থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও কোস্টগার্ড আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 





















