আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে এক মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। যেখানে মাছ ও সবজির দামে স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে, সেখানে অস্বস্তি বাড়িয়েছে সব ধরনের মাংস ও ডিমের ঊর্ধ্বমুখী দাম। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ সংকট ও ভারতীয় গরুর আমদানি কমে যাওয়াকে দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পুরান ঢাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বাজারে ডিমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি। একইসঙ্গে বেড়েছে ফার্মের মুরগির দামও, যা সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের দোকানগুলোতেও দেখা গেছে একই চিত্র। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। রায়সাহেব বাজারের মাংস বিক্রেতা জালাল জানান, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরুর আমদানি কমে যাওয়াই এই দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তিনি মনে করেন, দাম কমাতে হলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে হবে।
এমন মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। রথখোলা মোড়ের এক ক্রেতা বলেন, “এমনিতেই মাংসের দাম বেশি থাকে, তার ওপর প্রতি সপ্তাহে এভাবে ৫০-১০০ টাকা বেড়ে যাওয়াটা অসহনীয়। এদেশে দাম শুধু বাড়ে, কমে না।”
তবে স্বস্তি এনেছে মাছের বাজার। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। বড় জাতের রুই মাছ প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং হাইব্রিড কই মাছ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে মিলছে। যদিও দেশি শোল মাছ ১ হাজার ২০০ টাকা এবং দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে এখনো সাধারণের নাগালের বাইরে। মাছ ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, চাষের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় কাঁচাবাজারেও রয়েছে স্থিতিশীলতা। পেঁয়াজসহ বেশিরভাগ সবজির দাম গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কম। বাজার ও মানভেদে শিম প্রতি কেজি ৩০-৪৫ টাকা, মূলা ৩০-৩৫ টাকা, বেগুন ৪০-৬০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ২০-৩০ টাকা এবং শালগম ও পেঁপে ৩০-৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ব্রোকলি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। অবশ্য, মৌসুমের বাইরের সবজি যেমন পটল, করলা, ঢেঁড়স এবং টমেটো ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া, বোতলজাত সয়াবিন তেল, খোলা সয়াবিন তেল, চিনি, আটা, ময়দা, সরিষার তেল, ডাল ও বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ১৯৮ টাকা, খোলা চিনি ৯৫ টাকা এবং ছোট মসুর ডাল ১৫৫ টাকা ও মোটা মসুর ডাল ৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















