ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

এলপিজি অটোগ্যাস সংকটে স্থবির খাত: স্টেশন বন্ধের মুখে, ১৫ হাজার টন বরাদ্দের দাবি

পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি হিসেবে পরিচিত এলপিজি অটোগ্যাস খাত বর্তমানে এক তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে। দেশজুড়ে এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র অপ্রতুলতার কারণে অসংখ্য স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এলপিজি চালিত দেড় লাখেরও বেশি যানবাহনের ওপর। জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গাড়ির মালিক ও চালকরা। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ও কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে মোট এলপিজি ব্যবহারের অন্তত ১০ শতাংশ, অর্থাৎ মাসিক ১৫ হাজার মেট্রিক টন অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের দাবি জানিয়েছে।

গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস সংগ্রহ করতে না পারায় যানবাহন চালকরা যেমন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন, তেমনি যাত্রীসেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন জানায়, বর্তমানে দেশে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে অটোগ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয় মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ। অথচ এই সামান্য পরিমাণ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতে সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো খাত আজ বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে। তারা বিইআরসি-এর কাছে জোর দাবি জানান, এই ১৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি অটোগ্যাস যেন নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে স্টেশনগুলোতে সরবরাহ করা হয়।

ন্যূনতম এই সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গড়ে ওঠা এলপিজি অটোগ্যাস শিল্প সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এর ফলে প্রায় দেড় লাখ এলপিজি চালিত যানবাহনের মালিকরা বাধ্য হয়ে অন্য জ্বালানিতে ফিরে যাবেন, যা দেশের জ্বালানি ভারসাম্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। একইসঙ্গে হাজার হাজার অটোগ্যাস স্টেশন মালিক ও কর্মচারী আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন এবং বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বেন।

এই সংকট নিরসনে সরকারের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছে অ্যাসোসিয়েশন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: অবিলম্বে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক ও পর্যাপ্ত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এলপিজি সরবরাহ বন্ধ বা সীমিতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া; এলপিজি সিলিন্ডার ও অটোগ্যাস স্টেশনের সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় ও পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা; এলপিজি আমদানি বাড়াতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর আবেদন দ্রুত অনুমোদন দেওয়া; সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মনিটরিং ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; এবং চলমান সংকটকালে এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন মালিকদের আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় বিশেষ সহায়তা ও নীতিগত সুরক্ষা প্রদান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে: প্রধান উপদেষ্টা

এলপিজি অটোগ্যাস সংকটে স্থবির খাত: স্টেশন বন্ধের মুখে, ১৫ হাজার টন বরাদ্দের দাবি

আপডেট সময় : ০২:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি হিসেবে পরিচিত এলপিজি অটোগ্যাস খাত বর্তমানে এক তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে। দেশজুড়ে এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র অপ্রতুলতার কারণে অসংখ্য স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এলপিজি চালিত দেড় লাখেরও বেশি যানবাহনের ওপর। জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গাড়ির মালিক ও চালকরা। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ও কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে মোট এলপিজি ব্যবহারের অন্তত ১০ শতাংশ, অর্থাৎ মাসিক ১৫ হাজার মেট্রিক টন অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের দাবি জানিয়েছে।

গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস সংগ্রহ করতে না পারায় যানবাহন চালকরা যেমন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন, তেমনি যাত্রীসেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন জানায়, বর্তমানে দেশে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে অটোগ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয় মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ। অথচ এই সামান্য পরিমাণ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতে সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো খাত আজ বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে। তারা বিইআরসি-এর কাছে জোর দাবি জানান, এই ১৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি অটোগ্যাস যেন নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে স্টেশনগুলোতে সরবরাহ করা হয়।

ন্যূনতম এই সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গড়ে ওঠা এলপিজি অটোগ্যাস শিল্প সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এর ফলে প্রায় দেড় লাখ এলপিজি চালিত যানবাহনের মালিকরা বাধ্য হয়ে অন্য জ্বালানিতে ফিরে যাবেন, যা দেশের জ্বালানি ভারসাম্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। একইসঙ্গে হাজার হাজার অটোগ্যাস স্টেশন মালিক ও কর্মচারী আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন এবং বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বেন।

এই সংকট নিরসনে সরকারের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছে অ্যাসোসিয়েশন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: অবিলম্বে এলপিজি আমদানি স্বাভাবিক ও পর্যাপ্ত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এলপিজি সরবরাহ বন্ধ বা সীমিতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া; এলপিজি সিলিন্ডার ও অটোগ্যাস স্টেশনের সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় ও পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা; এলপিজি আমদানি বাড়াতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলোর আবেদন দ্রুত অনুমোদন দেওয়া; সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মনিটরিং ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; এবং চলমান সংকটকালে এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন মালিকদের আর্থিক ক্ষতি বিবেচনায় বিশেষ সহায়তা ও নীতিগত সুরক্ষা প্রদান।