আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিলের শেষ দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ভিড় করেছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) আপিলের নির্ধারিত শেষ দিনে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪০ জন প্রার্থী ইসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। এর ফলে, ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিলের নির্ধারিত পাঁচ দিনে ইসিতে জমা পড়া মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০৯।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন প্রাঙ্গণে সকাল থেকেই ছিল প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি। কেন্দ্রীয় বুথসহ অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথে আপিল গ্রহণ করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রার্থীরা তাদের বাতিল হওয়া মনোনয়নের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনি যুক্তি জমা দেন। ইসি সংশ্লিষ্টরা জানান, আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪০টি আপিল আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আদেশের বিরুদ্ধে গত চার দিনে (৫ থেকে ৮ জানুয়ারি) মোট ৪৬৯টি আপিল আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ছিল সর্বোচ্চ আপিলের দিন, সেদিন ১৭৪টি আবেদন জমা পড়ে। ওই দিন বাতিল হওয়া মনোনয়নের বিরুদ্ধে ১৬৪টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের আদেশের বিরুদ্ধে ১০টি আপিল করা হয়েছিল।
আপিলকারী প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম মামুনুর রশিদ। তার অভিযোগ, মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে ভোটার সমর্থন সংক্রান্ত জটিলতা দেখানো হয়েছে। মামুনুর রশিদ বলেন, “ভোটের আগেই প্রকাশ্যভাবে ভোটারের সমর্থন যাচাই করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আমি আশা করি, নির্বাচন কমিশন আপিল শুনানির মাধ্যমে আমাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেবে।” অন্যদিকে, রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমানও আপিল করেছেন। তিনি জানান, ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় তিনি ইসিতে এসেছেন।
উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল জানানোর সময়সীমা ছিল ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। এসব আপিলের নিষ্পত্তি করা হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়ে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























