ভুয়া ব্যবসায়ী সাজিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুখমিলা জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান দুর্নীতি দমন কমিশনের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামিরা বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে অস্তিত্বহীন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মীকে মালিক সাজিয়ে ভিশন ট্রেডিং নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এরপর জাল কাগজপত্র তৈরি করে ব্যাংকটির পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে রুখমিলা জামান এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরী নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ উপেক্ষা করে এই ঋণ অনুমোদন করান।
ঋণ নেওয়া অর্থের বড় একটি অংশ সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আগের দায় মেটাতে ব্যবহৃত হয় এবং বাকি অংশটি নগদ হিসেবে তুলে নেওয়া হয়। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই অর্থ হুন্ডি ও হাওলা প্রক্রিয়ায় প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাচার করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে সম্পদ কিনতে এই টাকা ব্যবহার করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, আসামিদের গাড়িচালকের এক প্রতিবেশীর বাসা থেকে ২৩ বস্তা গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব নথি থেকে বিদেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১১শটিরও বেশি ফ্ল্যাট ও রিয়েল এস্টেট কেনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, সাবেক এই মন্ত্রীর যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, দুবাইয়ে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১০টিসহ অন্তত ৯টি দেশে বিপুল সম্পদ রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও তারা গোপনে দেশ ছাড়েন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তারা দেশের বাইরে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























