ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনী খরচের হিসাব: কার পকেটে কত? কত দেবে দল?

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা কে কত টাকা খরচ করতে পারবেন এবং সেই অর্থের উৎস কী হবে—তা নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার নির্বাচনী আইনে বড় পরিবর্তন এনে ভোটার প্রতি ১০ টাকা হারে খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে আসনভেদে প্রার্থীরা এখন ২৫ লাখ থেকে শুরু করে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করার সুযোগ পাবেন। গত রোববার মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে ইসি সূত্রে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।


শীর্ষ প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎস:

  • তারেক রহমান (বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭): তিনি দুই আসনেই নিজের কৃষি খাত ও ব্যাংক আমানতের আয় থেকে ৩০ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা ব্যয় করার ঘোষণা দিয়েছেন।
  • ডা. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫): জামায়াত আমিরের নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য বাজেট ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা নিজের জমানো অর্থ এবং বাকি ২৫ লাখ টাকা দলের অনুদান হিসেবে পাবেন।
  • নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১): জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই প্রার্থীর মূল ভরসা ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা গণ-অনুদানের ৪৪ লাখ টাকা। বাকি ১ লাখ টাকা তিনি নিজের আয় থেকে খরচ করবেন।
  • তাসনিম জারা (ঢাকা-৯): স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি জনগণের কাছ থেকে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা জানিয়েছিলেন। তবে ১% ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও তিনি ইসিতে আপিল করেছেন।

ব্যয় সীমা ও রাজনৈতিক দলের নিয়ম:

প্রার্থীর সংখ্যা (দলের জন্য)সর্বোচ্চ ব্যয় সীমা
২০০ জনের বেশি প্রার্থী৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা
১০০ – ২০০ জন প্রার্থী৩ কোটি টাকা
৫০ – ১০০ জন প্রার্থী১ কোটি ৫০ লাখ টাকা
৫০ জনের কম প্রার্থী৭৫ লাখ টাকা

ক্রাউড ফান্ডিং নিয়ে ইসির অবস্থান:

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করার বিষয়ে নির্বাচনী আইনে সরাসরি কোনো বাধা নেই। প্রার্থীরা যদি আয়ের উৎস হিসেবে জনসাধারণ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দেখান এবং তা যদি নির্ধারিত ব্যয়সীমা (ভোটার প্রতি ১০ টাকা) অতিক্রম না করে, তবে ইসির করার কিছু থাকে না। তবে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার বেশি অনুদান নিতে পারবে না।

ভোটের পর এক মাসের মধ্যে সব প্রার্থীকে ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী জমা দিতে হবে। তথ্য গোপন বা নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করলে ২ থেকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় এবং ডিজিটাল প্রচারের সুযোগ থাকায় ব্যয় তদারকিতে ইসি বিশেষ ‘ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’ গঠন করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা ও বিনিয়োগ: জেদ্দায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিন দেশের মন্ত্রীদের ফলপ্রসূ বৈঠক

নির্বাচনী খরচের হিসাব: কার পকেটে কত? কত দেবে দল?

আপডেট সময় : ০১:৪৭:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা কে কত টাকা খরচ করতে পারবেন এবং সেই অর্থের উৎস কী হবে—তা নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার নির্বাচনী আইনে বড় পরিবর্তন এনে ভোটার প্রতি ১০ টাকা হারে খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে আসনভেদে প্রার্থীরা এখন ২৫ লাখ থেকে শুরু করে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করার সুযোগ পাবেন। গত রোববার মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে ইসি সূত্রে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।


শীর্ষ প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎস:

  • তারেক রহমান (বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭): তিনি দুই আসনেই নিজের কৃষি খাত ও ব্যাংক আমানতের আয় থেকে ৩০ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা ব্যয় করার ঘোষণা দিয়েছেন।
  • ডা. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫): জামায়াত আমিরের নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য বাজেট ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা নিজের জমানো অর্থ এবং বাকি ২৫ লাখ টাকা দলের অনুদান হিসেবে পাবেন।
  • নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১): জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই প্রার্থীর মূল ভরসা ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা গণ-অনুদানের ৪৪ লাখ টাকা। বাকি ১ লাখ টাকা তিনি নিজের আয় থেকে খরচ করবেন।
  • তাসনিম জারা (ঢাকা-৯): স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি জনগণের কাছ থেকে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা জানিয়েছিলেন। তবে ১% ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও তিনি ইসিতে আপিল করেছেন।

ব্যয় সীমা ও রাজনৈতিক দলের নিয়ম:

প্রার্থীর সংখ্যা (দলের জন্য)সর্বোচ্চ ব্যয় সীমা
২০০ জনের বেশি প্রার্থী৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা
১০০ – ২০০ জন প্রার্থী৩ কোটি টাকা
৫০ – ১০০ জন প্রার্থী১ কোটি ৫০ লাখ টাকা
৫০ জনের কম প্রার্থী৭৫ লাখ টাকা

ক্রাউড ফান্ডিং নিয়ে ইসির অবস্থান:

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করার বিষয়ে নির্বাচনী আইনে সরাসরি কোনো বাধা নেই। প্রার্থীরা যদি আয়ের উৎস হিসেবে জনসাধারণ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দেখান এবং তা যদি নির্ধারিত ব্যয়সীমা (ভোটার প্রতি ১০ টাকা) অতিক্রম না করে, তবে ইসির করার কিছু থাকে না। তবে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার বেশি অনুদান নিতে পারবে না।

ভোটের পর এক মাসের মধ্যে সব প্রার্থীকে ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী জমা দিতে হবে। তথ্য গোপন বা নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করলে ২ থেকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় এবং ডিজিটাল প্রচারের সুযোগ থাকায় ব্যয় তদারকিতে ইসি বিশেষ ‘ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’ গঠন করেছে।