ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৭ জনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শেষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেবল একজন ওয়ার্ড কমিশনার নন, বরং পুরো একটি চক্র এবং খোদ রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত। কেবলমাত্র একজন কাউন্সিলরের নির্দেশে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ডিবি যা বলছে, তা ‘পাগলেও বিশ্বাস করবে না’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডিবি’র তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শরিফ ওসমান হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করায় ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ থেকে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও খুনিদের পলায়নে সহায়তাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হাদি হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে বাপ্পীই সার্বিক সুরক্ষা দিয়েছিলেন। তবে ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, এই চার্জশিটে পর্দার আড়ালে থাকা রাঘববোয়ালদের নাম কৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার এই হত্যাকাণ্ডের মূল অপরাধীদের আড়াল করতেই একজন কাউন্সিলরকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা প্রকৃত প্রভাবশালী ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের এই লড়াই চলবে। শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চ মাঠ ছাড়বে না বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়। এই চার্জশিটকে অসম্পূর্ণ ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে অভিহিত করে পুনরায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রিপোর্টারের নাম 
























