ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় ব্যাপক গবেষণার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার

বঙ্গোপসাগরের তলদেশে প্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং জেলিফিশের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ বিশাল জলসীমা থাকলেও আমরা এই সামুদ্রিক সম্পদকে এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এই প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেন।

গবেষণা জাহাজ ‘আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন’ কর্তৃক পরিচালিত এই জরিপে ৮টি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী অংশ নেন, যার মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশি। প্রতিবেদনের উপাত্ত তুলে ধরেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী। তিনি জানান, গবেষণায় ৬৫ প্রজাতির নতুন জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে একই সাথে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার ভয়াবহ চিত্রও উঠে এসেছে। দুই হাজার মিটার গভীরতায় প্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং জেলিফিশের মাত্রাতিরিক্ত আধিক্য সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালের তুলনায় গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা এবং স্বল্প গভীরতায় সামগ্রিক মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অধ্যাপক সায়েদুর রহমান এর প্রধান কারণ হিসেবে ‘ওভারফিশিং’ বা অতিরিক্ত মৎস্য আহরণকে দায়ী করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও জোরালো পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা, কর্মহীন ভোলার ৬৪ হাজার জেলে

সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় ব্যাপক গবেষণার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার

আপডেট সময় : ০১:১২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের তলদেশে প্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং জেলিফিশের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ বিশাল জলসীমা থাকলেও আমরা এই সামুদ্রিক সম্পদকে এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এই প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেন।

গবেষণা জাহাজ ‘আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন’ কর্তৃক পরিচালিত এই জরিপে ৮টি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী অংশ নেন, যার মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশি। প্রতিবেদনের উপাত্ত তুলে ধরেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী। তিনি জানান, গবেষণায় ৬৫ প্রজাতির নতুন জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে একই সাথে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার ভয়াবহ চিত্রও উঠে এসেছে। দুই হাজার মিটার গভীরতায় প্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং জেলিফিশের মাত্রাতিরিক্ত আধিক্য সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালের তুলনায় গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা এবং স্বল্প গভীরতায় সামগ্রিক মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অধ্যাপক সায়েদুর রহমান এর প্রধান কারণ হিসেবে ‘ওভারফিশিং’ বা অতিরিক্ত মৎস্য আহরণকে দায়ী করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও জোরালো পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।