ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সরকারি দপ্তরে গাড়ি কেনার ব্যয়সীমা বৃদ্ধি: নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই নতুন প্রস্তাব

দেশে সরকারি ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে কয়েক বছর ধরে নতুন গাড়ি কেনায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, সেই নিয়মের মধ্যেই সরকারি দপ্তরগুলোতে গাড়ি কেনার মূল্যসীমা বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আগামী উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পেশ করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, মূলত ১০ বছরের পুরনো গাড়ি প্রতিস্থাপনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে আমলারা তাদের ব্যবহারের গাড়ির বরাদ্দ বাড়িয়ে নেওয়ার এই প্রস্তাবনা তৈরি করেছেন। বরাবরের মতো এই গাড়ি কেনার তালিকার শীর্ষে রয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে গাড়ির নতুন মূল্যসীমার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অনূর্ধ্ব ১৬শ সিসি গাড়ির বর্তমান বরাদ্দ ৪৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৬ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ২৫শ সিসি পিকআপের ক্ষেত্রে বরাদ্দ ১৪ লাখ টাকা থেকে এক লাফে ৫২ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে মিনিবাসে ১৩ লাখ, বাস ও ট্রাকে ১০ লাখ এবং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বরাদ্দ ৫৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০টি গাড়ি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দর যাচাই করে এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

সরকারি কৃচ্ছ্রসাধন নীতির কারণে নতুন যানবাহন কেনা বন্ধ থাকলেও পুরনো গাড়ি বদলানোর সুযোগ নিয়ে এই বড় অংকের ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবটি এখন প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানোর অপেক্ষায় রয়েছে। যদি আগামী উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এটি অনুমোদন পায়, তবে তা জাতীয় কোষাগারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে আমলাদের জন্য গাড়ির বাজেট বাড়ানো হলে তা সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেবে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বাজারদর বৃদ্ধি এবং পুরনো গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পোরশা উপজেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি রাশেদ, সম্পাদক শহিদুল

সরকারি দপ্তরে গাড়ি কেনার ব্যয়সীমা বৃদ্ধি: নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই নতুন প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৩:০৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

দেশে সরকারি ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে কয়েক বছর ধরে নতুন গাড়ি কেনায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, সেই নিয়মের মধ্যেই সরকারি দপ্তরগুলোতে গাড়ি কেনার মূল্যসীমা বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আগামী উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পেশ করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, মূলত ১০ বছরের পুরনো গাড়ি প্রতিস্থাপনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে আমলারা তাদের ব্যবহারের গাড়ির বরাদ্দ বাড়িয়ে নেওয়ার এই প্রস্তাবনা তৈরি করেছেন। বরাবরের মতো এই গাড়ি কেনার তালিকার শীর্ষে রয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে গাড়ির নতুন মূল্যসীমার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, অনূর্ধ্ব ১৬শ সিসি গাড়ির বর্তমান বরাদ্দ ৪৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৬ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ২৫শ সিসি পিকআপের ক্ষেত্রে বরাদ্দ ১৪ লাখ টাকা থেকে এক লাফে ৫২ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে মিনিবাসে ১৩ লাখ, বাস ও ট্রাকে ১০ লাখ এবং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বরাদ্দ ৫৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০টি গাড়ি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দর যাচাই করে এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

সরকারি কৃচ্ছ্রসাধন নীতির কারণে নতুন যানবাহন কেনা বন্ধ থাকলেও পুরনো গাড়ি বদলানোর সুযোগ নিয়ে এই বড় অংকের ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবটি এখন প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানোর অপেক্ষায় রয়েছে। যদি আগামী উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এটি অনুমোদন পায়, তবে তা জাতীয় কোষাগারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে আমলাদের জন্য গাড়ির বাজেট বাড়ানো হলে তা সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেবে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বাজারদর বৃদ্ধি এবং পুরনো গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।