সারা দেশে গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত টাকা দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস, যা সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী জিম্মি করে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে গ্যাস বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। রাজধানীর মালিবাগ, মানিকনগর ও কেরানীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দোকানেই গ্যাসের মজুত নেই, আর যেখানে আছে সেখানে চাওয়া হচ্ছে আকাশচুম্বী দাম। সাংবাদিক বা ক্যামেরা দেখলে ১৫০০ টাকা বললেও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য ২২০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের কারণ হিসেবে বড় সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো শীতকালীন বাড়তি চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটকে দায়ী করছে। ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম্মুনি জয়াসংকা জানান, ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা ও জাহাজ সংকটের কারণে একটি নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে এলপিজি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কমপক্ষে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। মূলত আমদানিতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর তথ্যানুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের নভেম্বরে এলপিজি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের নভেম্বরে ১ লাখ ৮০ হাজার টন আমদানি হলেও এবার তা ১ লাখ ৫ হাজার টনে নেমে এসেছে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, প্রতি মাসে সাধারণত ১ লাখ ৩০ হাজার টন গ্যাসের প্রয়োজন হয়, কিন্তু কার্গো জাহাজ কম আসায় এই সংকট প্রকট হয়েছে। তবে তিনি দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। আমদানির এই ঘাটতিই মূলত বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংকটের অজুহাতে দ্বিগুণ মূল্যে গ্যাস বিক্রির কোনো আইনগত সুযোগ নেই। এলপিজির দাম সরকার নির্ধারণ করে দেয়, তাই সরবরাহ কমলেও দাম বাড়ানোর কোনো গ্রহণযোগ্য যুক্তি নেই। ভোক্তাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, কোথাও অতিরিক্ত দাম চাওয়া হলে তারা যেন সরাসরি ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করেন। জনস্বার্থে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে অধিদপ্তর।
রিপোর্টারের নাম 



















